বাধ্যতামূলক করার পর বাংলা কিউআরে লেনদেন ৩ গুণ

বাধ্যতামূলক করার পর বাংলা কিউআরে লেনদেন ৩ গুণ
Advertisement
Advertisement

ব্যবসায়ীদের জন্য বাধ্যতামূলক করার পর বাংলা কিউআরে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার লেনদেন হতো, গত সপ্তাহে তা বেড়ে ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় উঠেছে।

একই সময়ে দৈনিক লেনদেনের সংখ্যাও ১ লাখ ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ৩ লাখ ৩ হাজারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ লেনদেনের সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়লেও টাকার অঙ্কে তা বেড়েছে প্রায় ১৯৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আট সপ্তাহে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৭২ হাজারটি লেনদেন হয়েছে। গত ২৮ জুন থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত এসব লেনদেনের মোট মূল্য ছিল প্রায় ৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।
নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে একটি অভিন্ন ও আন্তঃসংযোগযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গত ১ জুলাই থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেনের পাশাপাশি দ্রুত বেড়েছে এই ব্যবস্থার আওতায় আসা মার্চেন্টের সংখ্যাও।

গত ১ জুলাই দেশে বাংলা কিউআরের মার্চেন্ট ছিল প্রায় ১৬ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ দুই মাসেরও কম সময়ে নতুন করে প্রায় ১৪ লাখ মার্চেন্ট যুক্ত হয়েছে, যা প্রায় ৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাইয়ের শুরুতে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৭৮ হাজার বাংলা কিউআর লেনদেনের মাধ্যমে ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার পণ্য ও সেবা কেনা হতো। গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেনের সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৩ হাজারে এবং মূল্য ১১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন

লেনদেনের সংখ্যার তুলনায় টাকার অঙ্ক দ্রুত বাড়ায় প্রতিটি লেনদেনের গড় মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাইয়ের শুরুর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি লেনদেনের গড় মূল্য ছিল প্রায় ২ হাজার ৯৭ টাকা। গত সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৬৪৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও বাংলা কিউআর সম্প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশা, মার্চেন্ট নেটওয়ার্কের এই সম্প্রসারণ দেশের ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
বাংলা কিউআর মূলত একটি অভিন্ন ও ইন্টারঅপারেবল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর ফলে একজন ব্যবসায়ীকে বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য আলাদা কিউআর কোড রাখতে হয় না। একটি বাংলা কিউআর স্ক্যান করেই অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ থেকে মার্চেন্টকে অর্থ পরিশোধ করা যায়।

এর আগে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পর প্রাথমিক পর্যায়ে লেনদেনের পরিমাণ দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল পেমেন্ট বাজারের তুলনায় সীমিত ছিল। ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি আরও আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে।

আগামী ১ অক্টোবর থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারীদের কাছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত যোগ্য বাংলা কিউআর লেনদেনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান মোট ০.৩০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে। এর মধ্যে গ্রাহক যে ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ দিয়ে অর্থ পরিশোধ করবেন, সেই ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.২০ শতাংশ এবং মার্চেন্টকে বাংলা কিউআর সরবরাহকারী একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠান পাবে ০.১০ শতাংশ।

একই দিন থেকে সব বাংলা কিউআর লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ বিইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য হবে। ফলে বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর এই ফি পাবে না।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad