কুমিল্লায় ডাকাতির প্রস্তুতির সময় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ও একটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। সোমবার রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের সদর দক্ষিণ থানার পদুয়ার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন–চাঁদপুরের সদর উপজেলার জহিরুল ইসলাম প্রধানিয়া ওরফে ফারুক (৫৩), হাজীগঞ্জের মামুন মিজি (৪৫), ফরিদগঞ্জের মো. কবির ভূঁইয়া (৪০), চাঁদপুর সদর উপজেলার মো. রবিউল আলম (৩৫) এবং ফরিদগঞ্জের মো. নজরুল ইসলাম (৩৫)।
পুলিশ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি কুমিল্লার একটি বিশেষ দল পদুয়ার বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় ডাকাতির উদ্দেশে এক হওয়া কয়েকজনকে সন্দেহ হলে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলেও পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি লোহার বোল্ট কাটার, একটি সেলাই রেঞ্চ, একটি প্লাস, একটি লোহার রড, দুটি কাঠের বাটযুক্ত কিরিচ, একটি কাঠের বাটযুক্ত হাসুয়া, একটি কালো রঙের কাপড়ের ব্যাগ, একটি নীল রঙের পিকআপ ও একটি কালো রঙের ডিসকভার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, তারা ডাকাতির উদ্দেশে কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের পরানপুর বাজার এলাকায় যাচ্ছিলেন।তবে, সেখানে যাওয়ার আগেই ডিবির অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হন।
গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানায় ডাকাতি করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে অনেক থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের পৃথক পৃথক থানায় পাঁচটি নিয়মিত মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা একটি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ডাকাতির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


