ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৪৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাতে চালানো এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের দাবি, হামলায় রাশিয়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, চারটি হাইপারসনিক ‘জিরকন’ বা সুপারসনিক ‘ওনিক্স’ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন ব্যবহার করেছে।
জেলেনস্কির অভিযোগ, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল বেসামরিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গুদাম, অবকাঠামো এবং একটি রেলস্টেশন। এছাড়া একটি ব্রিউয়ারি, নির্মাণসামগ্রীর গুদাম ও বেসামরিক লজিস্টিকস কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই।
এ গ্রীষ্মে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনের হাতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সীমিত হওয়ায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘আজ যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের জীবন ব্যালিস্টিক প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে রক্ষা করা সম্ভব হতো। আমাদের অংশীদারদের বুঝতে হবে, এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে বিলম্ব বা অনীহা সরাসরি প্রাণহানি ও ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনছে।’
কিয়েভ অঞ্চলের ব্রোভারি, বুচা ও ফাস্তিভ জেলায় একাধিক স্থানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ। ব্রোভারি শহর এবং ভেলিকা ডিমেরকা, কভিতনেভে ও পেরেমোহা গ্রামে বড় বড় গুদামে আগুন লাগে। ফাস্তিভ জেলায় একটি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বুচা জেলার চাইকি গ্রামে একটি গুদাম এবং সোফিইভস্কা বরশচাহিভকায় একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে আগুন নেভাতে কাজ করে উদ্ধারকর্মীরা।
অন্যদিকে কিয়েভ শহরের ওবোলোনস্কি, সভিয়াতোশিনস্কি, হোলোসিভস্কি ও দেসনিয়ানস্কি জেলায় হামলার পর সৃষ্ট সব আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানিয়েছে কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এপিসেন্টর’। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই রুশ ক্ষেপণাস্ত্র তাদের বহু বছরের গড়ে তোলা স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়। হামলায় একজন কর্মী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাবও ধ্বংস হয়েছে।
এছাড়া সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রতিষ্ঠানটির সিরামিক টাইলস উৎপাদন কারখানার মূল উৎপাদন ইউনিট ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম আপাতত বিদেশে স্থানান্তর করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পাল্টা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটি সম্প্রতি রাশিয়ার বৃহৎ অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক গুদামে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, এর মাধ্যমে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং যুদ্ধের মূল্য রুশ জনগণের সামনে তুলে ধরাই তাদের উদ্দেশ্য।


