বন্যার পর চট্টগ্রামের বাজারে স্বস্তির আভাস, দামে বড় ব্যবধান

বন্যার পর চট্টগ্রামের বাজারে স্বস্তির আভাস, দামে বড় ব্যবধান
চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেট কর্ণফুলী কমপ্লেক্স মার্কেট। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

টানাবৃষ্টি ও বন্যার প্রভাব কাটতে শুরু করলেও চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। নগরীর কাঁচাবাজারে সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। সরবরাহসংকট ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় একই পণ্যের দামে এলাকাভেদে বড় ব্যবধান রয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী সপ্তাহ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে।

শুক্রবার নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার, দুই নম্বর গেটের কর্ণফুলী মার্কেট ও সিডিএ কাজীর দেউড়ি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বহদ্দারহাট বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। সেখানে আলু প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০, টমেটো ৬০ থেকে ৮০, বেগুন ৬০ থেকে ৭০, ঢেঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ ও বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বহদ্দারহাটের ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যার পর ধীরে ধীরে সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে। কয়েকটি সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। সরবরাহ থাকলে দাম আরও কমবে।’

দুই নম্বর গেট এলাকার কর্ণফুলী মার্কেটে সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। সেখানে ঢেঁড়শ ১০০ টাকা, পটল ৮০, বরবটি ১২০ ও টমেটো ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০, দেশি রসুন ১০০, আমদানি করা রসুন ১৫০ ও আদা ১৬০ টাকা কেজি।

মাংস ও পোলট্রির মধ্যে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০, লেয়ার মুরগি ৩৬০ ও ছাগলের মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কর্ণফুলী মার্কেটের বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, ‘বন্যার কারণে সাতকানিয়া থেকে সবজি আসছে না। উত্তরবঙ্গ থেকে সবজি আনতে হচ্ছে। তাই বাজারে দাম বেশি।’

আরও পড়ুন

শসার দামে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে কর্ণফুলী মার্কেটে। তিন দিন আগেও প্রতি কেজি শসা ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম কমে ৮০ টাকা হয়েছে।

সিডিএ কাজীর দেউড়ি বাজারে ঢেঁড়শ ১২০ টাকা, পটল ১০০, বরবটি ১৪০ ও টমেটো ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩৫০ ও ছাগলের মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি।

কাজীর দেউড়ির পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘গাড়িভাড়া বেড়েছে। বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছি।’

গত ১৭ জুলাই কাজীর দেউড়ি, কর্নেলহাট ও বহদ্দারহাট বাজারে কাঁকরোল ৮০ টাকা, পটল ৭০, বেগুন ১২০, বরবটি ১৪০, ঢেঁড়শ ৮০, ঝিঙা ১০০ ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। এখন কিছু পণ্যের দাম কমলেও বাজারভেদে পার্থক্য রয়েছে।

মাংসের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা বিক্রি হলেও এক সপ্তাহ আগে তা ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম ২৮০ থেকে ৩১০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় উঠেছে। খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

মাছের বাজারে লইট্যা মাছের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি লইট্যা ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০, চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০, কাঁচকি ৪০০ টাকা, চাষের কই ২৫০ থেকে ৩০০, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০, শিং ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা ও ট্যাংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমদানি করা কাঁচা মরিচ বাজারে এলে দাম কমে যাবে। অন্য সবজির সরবরাহ কিছুটা কমলেও বড় প্রভাব পড়েনি।’

রিয়াজউদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক শিবলী বলেন, ‘বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে দাম প্রতিদিনই ওঠানামা করে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমবে।’

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষিপণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় খুচরা বাজারে দামের তারতম্য দেখা যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ বাড়লে বাজারে স্বস্তি ফিরবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad