বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চুরি ও মাদক মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে থানায় হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকালে ওই হামলার ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
শুক্রবার আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় চুরির মামলায় রিয়াজ ফকির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে শতাধিক নারী-পুরুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় থানায় ভাঙচুর, ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে পুলিশের ৬ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। গুরুতর আহত এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য পুলিশ সদস্যদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক জানান আসামি রিয়াজ ফকিরের মাথায় আঘাত থাকলেও তা গুরুতর নয়।
রিয়াজ ফকিরের স্বজনদের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে অতিরিক্ত মারধর করেছে। মৃত্যুর খবর শুনে থানায় গেলে পুলিশ তাদের ওপরও হামলা চালায়। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার হওয়া আসামির বাবা সিদ্দিক ফকির গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তেজিত করে তোলেন। পরে থানা ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, ‘রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে শতাধিক ব্যক্তি থানায় হামলা চালায়। এখন পর্যন্ত আমরা ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছি, বাকি হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
এদিকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, পুলিশের ওপর এ ধরনের হামলা ‘নব্য মব সংস্কৃতির’ বহিঃপ্রকাশ এবং এটি ফৌজদারি অপরাধ। একই সঙ্গে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এ ধরনের হামলা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচারপ্রক্রিয়া এবং জননিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পিত উসকানি বা সংগঠিত ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ঢাকা জেলার এসপি শামীমা পারভীন ।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু


