রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই যেন স্তব্ধ হয়ে যায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম। এরপরই ফারাও শিবিরে নামল কান্নার ঢল, যেখানে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা আর ক্ষোভ একাকার হয়ে গিয়েছিল মুহূর্তেই। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ গোলের সেই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের পর মিসরের এমন বিদায় আক্ষরিক অর্থেই ছিল ভীষণ ট্রাজিক। ফুটবলবিধাতা যে তাদের এমন এক বুকভাঙা যন্ত্রণার গল্প উপহার দেবেন, তা রূপকথার ঘোরে থাকা কোনো মিসরীয় সমর্থক ভাবতেই পারেনি।
তবে বিদায়ের এই চরম বেদনার মাঝেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন দলনেতা মোহাম্মদ সালাহ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গের ঠিক পরপরই সমর্থকদের উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এই ফারাও কিং, যেখানে হতাশার বুক চিরে সালাহ নিয়েছেন মিসরীয় ফুটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার এক দৃঢ় ও নতুন শপথ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সালাহ সমর্থকদের দলের ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে জাতীয় দলকে আরও বড় সাফল্য এনে দিতে নিজের সর্বোচ্চ উজাড় করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
পোস্টে সালাহ লিখেছেন, ‘আমি জানি আপনারা এখনো কতটা ব্যথিত। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি–আন্তর্জাতিক ফুটবলে মিসরের এক নতুন পথচলার শুরু নিশ্চিত করতে আমি আমার সাধ্যের সবকিছু করব। বিশ্বকাপে কেবল কোয়ালিফাই করাই আমাদের শেষ লক্ষ্য হবে না, আর শুধু অংশগ্রহণ করেই আমরা সন্তুষ্ট থাকব না। এই দলটা আপনাদের বিশ্বাসের মর্যাদা দেওয়ার যোগ্যতা রাখে।’
যদিও সালাহর শেষটা হয়েছে একরাশ হতাশা আর হৃদয়ভঙ্গ দিয়ে, তবুও এবারের বিশ্বকাপ মিসরের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক অর্জনের সাক্ষী হয়ে থাকবে। মিসরের কোচ হোসাম হাসানের অধীনে আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে এ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিল ফারাওরা। এরপর অধিনায়ক সালাহর নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে তারা যে স্মরণীয় পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ১-১ গোলের এক স্নায়ুক্ষয়ী ও গুরুত্বপূর্ণ ড্র তুলে নিয়ে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছিল মিসর।
এর আগে, শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ডালাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে মিসর। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ‘সকারুজদের’ ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয়টি তুলে নেয় ফারাওরা। তবে আটলান্টায় এসে শেষ হয় তাদের এই রূপকথার যাত্রা। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালের ঘ্রাণ পেয়েও আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে অবিশ্বাস্য হারে বিদায় নিতে হয় তাদের। বিশ্বকাপের এই ঐতিহাসিক পথচলায় মিসরের হয়ে সালাহ নিজে ১টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ২টি গোল।


