গত বছর ‘তুফান’ মুক্তির পরপরই এর সিক্যুয়েলের ইঙ্গিত দেন নির্মাতা রায়হান রাফী। ছবির শেষ দৃশ্যেও রাখা হয় সেই আভাস। গেল বছরের জুনে বিদেশে মুক্তির প্রাক্কালে রাফী জানান, দ্বিতীয় কিস্তি দেখতে দর্শকদের অন্তত এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে শাকিব খান তখন স্পষ্ট করে বলেন, পরের বছরই ‘তুফান ২’ আসার সম্ভাবনা নেই, কারণ একাধিক দেশে শুটিং করতে হবে এমন বড় পরিসরের প্রস্তুতি প্রয়োজন।
এর মধ্যে শাকিব খান ব্যস্ত হয়ে পড়েন রাফীর সঙ্গেই আরেকটি সিনেমা ‘তাণ্ডব’ এবং মেহেদী হাসান হৃদয়ের ‘বরবাদ’ নিয়ে। ‘তুফান ২’-এর অগ্রগতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায় যে শাকিব খান শিডিউল না দেওয়ায় ছবিটি পিছিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক পডকাস্টে রায়হান রাফী জানান, ২০২৭ সালে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে এবং বছরের শেষ দিকে শুটিং শুরুর ইচ্ছা আছে প্রযোজকদের। তখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তির খবর মেলেনি, ফলে অনিশ্চয়তা থেকেই যায় দর্শকমহলে।
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘তুফান ২’-তে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শাকিব খান। জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী জানুয়ারিতে শুরু হবে সিনেমার শুটিং। আগের সিনেমার পুরো টিম— পরিচালক রায়হান রাফী, প্রযোজনা সংস্থা আলফা-আই, চরকি ও এসভিএফ এবং মূল কলাকুশলীরা থাকছেন এবারও। মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে আগামী রোজার ঈদ অথবা কোরবানির ঈদকে ঘিরে।
‘তুফান ২’ সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র টাইমস অব বাংলাদেশকে খবরটি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি বলছে, যেহেতু সিক্যুয়েল তাই অভিনয়শিল্পী পরিবর্তন হওয়ার খুব একটা সম্ভাবনা নেই। তবে প্রযোজনা সংস্থা মাসখানেক সময় নিবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার জন্য।
এর আগে ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর ঢাকার এক হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ঘোষণা করা হয় ‘তুফান’ সিনেমার নাম। রায়হান রাফীর পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন শাকিব খান, তার বিপরীতে ছিলেন কলকাতার মিমি চক্রবর্তী ও ঢাকার মাসুমা রহমান নাবিলা। নব্বইয়ের দশকের এক গ্যাংস্টারের উত্থানের গল্প নিয়ে নির্মিত ছবিটি প্রযোজনা করে আলফা-আই স্টুডিওজ, চরকি ও কলকাতার এসভিএফ।
গত বছরের কোরবানির ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘তুফান’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে রীতিমতো ঝড় তোলে। ১২০টির বেশি হলে প্রদর্শিত হয় ছবিটি, চলে একের পর এক হাউজফুল শো। পরে বিশ্বের ১৪টি দেশে এবং ৫ জুলাই পশ্চিমবঙ্গেও মুক্তি পায় সিনেমাটি। ছবির দুটি গান ‘লাগে উরাধুরা’ ও ‘দুষ্টু কোকিল’ ইউটিউবে ১০০ কোটির বেশি ভিউ পায়, যা বাংলা সিনেমার গানের ক্ষেত্রে বিরল এক মাইলফলক। বক্স অফিসেও ছবিটি রেকর্ড গড়ে, দেশে-বিদেশে মিলিয়ে আয়ের অঙ্ক নিয়ে তখন আলোচনা হয় ব্যাপক। আশা করা হচ্ছে এ সিক্যুয়েলটিও বক্স অফিসে দারুণ ব্যবসা করবে।


