সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন কুখ্যাত ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য। বুধবার বিকালে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা এক জেলেকেও নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আত্মসমর্পণ করা দস্যুরা হলেন— বাগেরহাটের মোংলা থানার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা থানার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা থানার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি ও জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিলেন।
অভিযানের বিষয়ে কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ চলমান রয়েছে। এই বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪২ বনদস্যুকে আটক এবং ৪১ জন অপহৃতকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য এরই মধ্যে আত্মসমর্পণ করেছে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও আত্মসমর্পণকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধারকৃত জেলেকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন।
কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন বলেন, ‘সুন্দরবনের সকল সক্রিয় দস্যুকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা আত্মসমর্পণ করবে, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যথায়, অপরাধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের “জিরো টলারেন্স” নীতির আলোকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


