গোবিপ্রবির ২৫ বছর: সাফল্য, সংগ্রাম ও আগামীর প্রত্যাশা

গোবিপ্রবির ২৫ বছর: সাফল্য, সংগ্রাম ও আগামীর প্রত্যাশা
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ২৪ বছর অতিক্রম করে ২৫ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। আইনগতভাবে ২৪ বছরের পথচলা সম্পন্ন হলেও একাডেমিক কার্যক্রমের হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির বয়স ১৪ বছর।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও একাডেমিক যাত্রা

২০০১ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন পাসের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও ২০০৯ সালে প্রকল্পটি পুনরায় সচল করা হয়। ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অনুষদ- প্রকৌশল, বিজ্ঞান, ব্যবসায় অধ্যয়ন ও মানবিক অনুষদের অধীনে পাঁচটি বিভাগ চালু করা হয়। বিভাগগুলো ছিল- কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেক্ট্রনিক্স, গণিত, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা এবং ইংরেজি। প্রতিটি বিভাগে ৩২ জন করে মোট ১৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে আটটি অনুষদের অধীনে ৩৩টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখর এ ক্যাম্পাস আজ দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

প্রকৃতির কোলে এক অনন্য ক্যাম্পাস

প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় ঘেরা গোবিপ্রবি শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কারণেও বিশেষভাবে পরিচিত। ক্যালিফোর্নিয়া রোডের সবুজ বৃক্ষসারি, বনলতা সেন রোড, লেকপাড়, টিলা এবং বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর ক্যাম্পাসকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী, দর্শনার্থী ও ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কাছে এসব স্থান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রাণবন্ত শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিক্ষার্থীদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিতর্ক, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, বিজ্ঞানচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নেতৃত্বগুণ ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে।

আরও পড়ুন

গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সাফল্য

গবেষণা, উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রেও গোবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও গবেষণা, উদ্ভাবন ও একাডেমিক কার্যক্রমে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখছেন।
গোবিপ্রবির অসংখ্য গ্র্যাজুয়েট বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণায় অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীনে বিভিন্ন ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ লাভের মাধ্যমেও গোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছেন। পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন।
শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গোবিপ্রবির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

উন্নয়নের ধারাবাহিকতার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান। ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষক স্বল্পতা, আবাসন সমস্যা, গবেষণা কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা এবং কিছু বিভাগের সেশনজট শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে অন্তরায় হয়ে রয়েছে। সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, আধুনিক অবকাঠামো, পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা, টিএসসি, অডিটোরিয়াম এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক সম্প্রসারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।আগামীর প্রত্যাশা

দীর্ঘ দুই দশকের অধিক সময়ের পথচলায় গোবিপ্রবি যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও আদর্শকে ধারণ করে শিক্ষা, গবেষণা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে আরও সমৃদ্ধ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি আগামী দিনে দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে—এমনটাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের প্রত্যাশা।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দীন শেখরের বাণী

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী এবং অত্র অঞ্চলের সম্মানিত সুধীবৃন্দকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই বিদ্যাপীঠ আজ একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত।

আমি বিশ্বাস করি, সকলের সহযোগিতায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাবে।

সকলের জন্য শুভকামনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর