সড়কের পাশের ফল খেয়ে অসুস্থ ১৪ শিশু, হাসপাতালে ভর্তি ৯

সড়কের পাশের ফল খেয়ে অসুস্থ ১৪ শিশু, হাসপাতালে ভর্তি ৯
Advertisement
Advertisement

দেখতে অনেকটা কাঠবাদামের মতো, তাই কৌতূহলবশত সড়কের পাশে থাকা ফলগুলোর কয়েকটি খেয়ে ফেলে গ্রামের শিশুরা। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই সেই আনন্দ পরিণত হয় আতঙ্কে।

ফল খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে অন্তত ১৪ শিশু। তীব্র পেটব্যথা, বমি ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে তাদের মধ্যে ৯ জনকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। রোববার বিকালে ঘটনাটি ঘটে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সহড়াবাড়ীয়া গ্রামে। অসুস্থ শিশুদের ভর্তি করা হয়েছে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

স্থানীয়দের ভাষায় ‘জিয়ালা’ নামে পরিচিত একটি গাছের ফলকে কাঠবাদাম ভেবে খেয়ে ফেলে শিশুরা। চিকিৎসকরা জানান, এটি বিদেশি প্রজাতির বার্বাডোজ নাট গাছের ফল, যা খেলে বিষক্রিয়া, পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বিকালে গ্রামের বিভিন্ন বয়সী শিশুরা মাঠে খেলতে যায়। খেলার এক পর্যায়ে সড়কের পাশে থাকা একটি গাছের ফল দেখতে পেয়ে তারা কৌতূহলী হয়ে ওঠে। ফলগুলো দেখতে কাঠবাদামের মতো হওয়ায় কয়েকজন আগে খেয়ে দেখে। মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় অন্যরাও একে একে ফল খেতে শুরু করে।

খেলার সময় কোনো সমস্যা না হলেও সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পর থেকেই শিশুদের তীব্র পেটব্যথা শুরু হয়। এরপর বমি করতে থাকে কয়েকজন। একই গ্রামের একাধিক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। পরে দ্রুত তাদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে রয়েছে মোস্তাকিন (১২), কাফি (১২), আমেনা খাতুন (৩), হালিমা (৯), রক্তিমা (১১), রিয়াদ (১১), ফেরদৌস (১০), ফুয়াদ (১২) ও মোস্তাকিম (৯)। এছাড়া আরও পাঁচ শিশুকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

স্থানীয়ভাবে ‘জিয়ালা’ নামে পরিচিত গাছের ফল। ছবি: টাইমস

অসুস্থ শিশু মোস্তাকিন জানায়, ‘আমরা খেলছিলাম। রাস্তার পাশে একটি গাছে ফল ছিল। দেখতে কাঠবাদামের মতো লাগছিল। আমি কয়েকটা খাওয়ার পর কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু রাতে বাসায় গিয়ে খুব পেটব্যথা শুরু হয়, তারপর বারবার বমি করি।’

আরেক শিশু রক্তিমা (১১) জানায়, ‘সবাই ফল খাচ্ছিল, তাই আমিও খেয়েছিলাম। স্বাদ মিষ্টি ছিল। পরে হঠাৎ পেটব্যথা শুরু হয়।’

এক শিশুর অভিভাবক আশারুল ইসলাম জানান, ‘আমরা কখনও শুনিনি এই গাছের ফল খেলে এমন সমস্যা হতে পারে। শিশুরাও না বুঝেই খেয়ে ফেলেছে। পরে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ায় খুব ভয় পেয়ে যাই। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

আরেক অভিভাবক রবিউল জানান, গ্রামের অনেকেই গাছটি চিনলেও এর ফল যে বিষাক্ত, তা জানত না। তাই শিশুদের কেউ বাধা দেয়নি। এখন সবাই বুঝতে পারছেন, অপরিচিত কোনো গাছের ফল খাওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

মেহেরপুর গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার উমর ফারুক জানান, স্থানীয়ভাবে জিয়ালা নামে পরিচিত এই গাছটি আসলে বিদেশি প্রজাতির বার্বাডোজ নাট। এর ফল ও পাতায় বিষাক্ত উপাদান রয়েছে। এগুলো খেলে পেটব্যথা, বমি, মারাত্মক ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও জানান, অসুস্থ শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। তবে এ ধরনের ফল খাওয়ার পর কারও অসুস্থতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad