টাঙ্গাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডে দ্রুত বদলে যাচ্ছে শহর ও গ্রামীণ জনপদ। রাস্তাঘাট পাকাকরণ, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নত হচ্ছে প্রান্তিক জনপদের অর্থনৈতিক চিত্র।
জেলা এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলায় মোট রাস্তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৮২৭ কিলোমিটার। এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে উপজেলা সড়ক ৮১৪ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ১ হাজার ৭৫ কিলোমিটার এবং গ্রামীণ সড়ক ৭ হাজার ৯৩৭ কিলোমিটার।
এর মধ্যে ২ হাজার ৯৪৬ কিলোমিটার রাস্তা পিচ ঢালাই করে পাকা করা হয়েছে। বাকি ৬ হাজার ৮৮১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাকে ধাপে ধাপে পাকা করার একটি বড় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এলজিইডি। এ ছাড়া যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে ২৮৭ কিলোমিটার রাস্তা নিয়মিত মেরামত করা হচ্ছে।
এসব রাস্তায় প্রান্তিক মানুষের যাতায়াত ও পণ্য আনা-নেওয়া সহজ করতে প্রায় আড়াই হাজার মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট তৈরি করেছে এলজিইডি। শুধু তাই নয়, যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়াতে ৯৫ কিলোমিটার উপজেলা সড়কে, ৭১ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়কে এবং ৩৯ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে।
রাস্তাঘাট-ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ছাড়াও গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কাজ সচল রাখতে এ পর্যন্ত ১৬টি আধুনিক হাট-বাজার ও বিভিন্ন ঘাট তৈরি করেছে এলজিইডি। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারে চলে আসছে।
পাশাপাশি, এলজিইডির প্রাথমিক শিক্ষা অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অধীনে তৈরি হয়েছে অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। গ্রামের শিশুদের শিক্ষার মান বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখছে এসব আধুনিক ও সুন্দর স্কুল।
এলজিইডি সূত্র আরো জানায়, কৃষি ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে এলজিইডি পানির উৎস তৈরি ও তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। ছোট পানি সম্পদ উন্নয়ন এবং দেশব্যাপী পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলে ইতোমধ্যে ১২ কিলোমিটার খাল এবং ৫টি সরকারি পুকুর খনন করা হয়েছে। সেই সাথে স্লুইসগেট ও সেচ উপ-প্রকল্পসহ ২টি বড় অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে, আরও ১টি সেচ উপ-প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
টাঙ্গাইল শহরের বাসিন্দা নাজিমুদ্দিন, সাগর আহমেদ, শামীমুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, জেলা সদরের কেন্দ্রবিন্দু ডিসি অফিস-এলজিইডি মোড় (বৈল্লা) রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ওই রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহন ও মানুষজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। রাস্তাটি এলজিইডি নাকি সড়ক বিভাগ ঠিক করবে—তা নিয়ে জটিলতা ছিল। অবশেষে এলজিইডি রাস্তাটি পুনরায় নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষের খুবই উপকার হয়েছে।
ধনবাড়ীর পোল্ট্রি খামারের মালিক আজগর আলী জানান, উপজেলার মুশুদ্দী-ঝোপনা সড়কে ব্রিজ তৈরি হওয়ায় এখন আর তাদের ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয় না। কৃষিপণ্য, পোল্ট্রি মুরগি ও ফিড এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস সহজে আনা-নেওয়া করা যায়। এতে তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।
বাসাইল উপজেলার শিক্ষক আবুল কাশেম ও হাসান আলী রেজা জানান, ঝিনাই নদীর ওপর ব্রিজ তৈরি করায় দাপনাজোর এলাকায় অবস্থিত আধুনিক ওয়াটার গার্ডেন ও স্পা-তে প্রচুর মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। সেই সাথে নিত্যপণ্য, কৃষিপণ্য এবং শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের যাতায়াতের পথ সুগম হয়েছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গ্রামীণ অবকাঠামোর এই টেকসই উন্নয়ন মূলত প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে জেলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে।


