রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি বাসা থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমো (২৬) নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
মিমো বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। তার ডায়েরিতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী এবং ‘হানি’ নামের এক শিক্ষার্থীর নাম পাওয়া গেছে।
তার সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।’
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ওই শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা।
তিনি বলেন, ‘রোববার সকাল ৮টার দিকে বিষয়টি জানার পর তারা বাড্ডায় শিক্ষার্থীর বাসায় যান। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই ছাত্রী নিজের বাসায় আত্মহত্যা করেছেন।’
কাজী তামান্না হক সিগমা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ছাত্রীর মোবাইল ফোন থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেসব তথ্যের ভিত্তিতেই বিভাগের এক শিক্ষকের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে।’
তিনি আরও জানান, ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বর্তমানে পুরো বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলেও জানা তিনি।
তিনি বলেন, ‘তার এই আকস্মিক মৃত্যু আমরা কেউই মেনে নিতে পারছি না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে গুলশান জোনের (বাড্ডা) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া কিছু আলামতের ভিত্তিতে বিভাগের একজন শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। একই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মুনিরা মাহজাবিন মিমোর বাবার নাম মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। তাদের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর শিবচর উপজেলার ডাইয়ারচরে।


