মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ‘হেফাজতে নেওয়ার’ পর ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে ‘সাময়িক কারাগার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-১ শাখা থেকে জানানো হয়, রোববার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ওই প্রজ্ঞাপনে সই করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব মো. হাফিজ আল আসাদ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত “এমইএস” বিল্ডিং নং-৫৪-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হলো।’
এতে নিশ্চিত করা হয়েছে, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

যদিও কোন উদ্দেশ্যে ভবনটি ‘সাময়িক কারাগার’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে, প্রজ্ঞাপনে সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
গত আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিভিন্ন জনকে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দুই মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে ৮ অক্টোবর ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এদের মধ্যে ২৫ জন ছিলেন সেনা কর্মকর্তা। তার মধ্যে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ‘হেফাজতে’ নেওয়ার কথা জানায় সেনা সদর।
শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের মেস আলফাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, ৩টি মামলায় ২৫ সেনা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে অবসরে আছেন ৯ জন, এলপিআরএ একজন, আর বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫ জন।
তিনি জানান, ‘৮ অক্টোবর চার্জশিট দাখিলের পর এলপিআর ও সার্ভিসে থাকা ১৬ জনকে সেনাসদরে সংযুক্ত করা হয়। তাদের ৯ অক্টোবরের মধ্যে সেনাসদরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়। মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া বাকি ১৫ জন জবাব দিয়েছেন। তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন আছেন।’
কবীর আহাম্মদের বিষয়ে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, ৯ অক্টোবর সকালে তিনি বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।


