হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর লাখাই উপজেলা থেকে তারেক মিয়া নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার আইফোন ১১ ছিনিয়ে নেওয়ার লোভে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহেল মিয়া নামে তার এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকায় একটি মাদ্রাসার পাশের ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তারেক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের বাসিন্দা।গ্রেপ্তার শাহেল একই গ্রামের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর তারেক ও শাহেল রাজমিস্ত্রির কাজ করতে নবীগঞ্জের নিজ গ্রাম থেকে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে সুরের রহমানের বাড়িতে যান। রাতে কাজ শেষে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তারেককে কৌশলে ডেকে নিয়ে যান শাহেল। পরে ফুলবাড়িয়া এলাকার একটি নির্জন স্থানে তাকে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি ডোবায় ফেলে রেখে নিজ গ্রাম নবীগঞ্জে ফিরে যান তিনি।
এদিকে তারেক বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা শাহেলের কাছে তার বিষয়ে জানতে চান। তবে শাহেল কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির সূত্র ধরে প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে মঙ্গলবার শাহেলকে গ্রেপ্তার করে নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানানো হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাখাই ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে রাত ৮টার দিকে ডোবা থেকে তারেকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক শাহেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


