রাজধানীর কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের নামে নয়জনকে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। এদিনেই অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ সময় চেয়ে আবেদন করেন। প্রসিকিউশনের আপত্তি না থাকায় আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় মোট আসামি আটজন। এর মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার থাকায় বাকিদের আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তারা আত্মসমর্পণ করেননি, কিংবা তাদের গ্রেপ্তারও করা যায়নি। গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া।
পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন।
এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।২০১৬ সালের ২৫ জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজবাড়ি নামক বাড়িতে ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। সেই অভিযানে নয় তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যাদের তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত জঙ্গি নাটক এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি ও বিভিন্ন তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে। মামলাটি আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, এ বিচারাধীন থাকলেও পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, এ স্থানান্তর করা হয়।


