জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: শেষবারের মতো সময় পেল আসামিপক্ষ

জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: শেষবারের মতো সময় পেল আসামিপক্ষ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ রহমান। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৮ নভেম্বর শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল। তবে আসামিপক্ষকে শেষবারের মতো সময় দিয়েছে আদালত।

বুধবার ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে আসামি বার্জিস শাবনাম বর্ষা ও মো. মাহির রহমানের পক্ষে সময় আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দেশের বাইরে থাকার কারণ দেখিয়ে সময় চাওয়া হয়। শুনানি শেষে আদালত আসামিপক্ষকে শেষবারের মতো সময় দিয়ে আগামী ৮ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

বর্তমানে এই মামলার তিন আসামিই কারাগারে রয়েছেন। শুনানির দিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

ছাত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

মামলার তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

যেভাবে খুন হন জোবায়েদ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন মো. জোবায়েদ হোসেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে যান তিনি।

সেদিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে ওই ছাত্রী জানান, জোবায়েদ স্যারকে খুন করা হয়েছে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান মোবাইল ফোনে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে বিষয়টি জানান।

এরপর এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় তারা সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন।

হত্যা মামলা ও অভিযোগপত্র

এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে প্রায় নয় মাস পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad