ঢাকার পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপন বা অন্য কোনো মেলা আয়োজনের প্রতিবাদ এবং কৃষি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)।
বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানারে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা ‘এক দুই তিন চার, আমলাতন্ত্র নিপাত যাক’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, এবং ‘সচিবালয় না শেকৃবি? শেকৃবি, শেকৃবি!’ সহ নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
মাঠে প্রবেশের পরপরই শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং বাঁশ ও ইট দিয়ে নির্মাণাধীন মেলার প্রধান ফটক ভাঙচুর করেন। এরপর তারা মেলার সীমানাবেষ্টিত টিনের বেড়া ভেঙে ফেলেন এবং ভেতরে তৈরি হতে থাকা নির্মাণাধীন স্টলগুলো গুঁড়িয়ে দেন। এছাড়া মেলা উপলক্ষে মাঠে নতুন করে লাগানো বেশ কিছু লাইটপোস্টও তারা নুইয়ে দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি একটাই, তাদের মাঠ তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। পরবর্তীতে আয়োজকদের ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তারা। তাদের হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি এ সময়ের ভেতরে না সরানো হয়, তবে তারা আবার আসবে।
মেলা আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘যতক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিটমাট না হচ্ছে, ততক্ষণ মেলার কাজ আমরা করব না। যাদের মালামাল এখানে রয়েছে তাদের আমরা খবর দিয়েছি, তারা আসছে।’
আন্দোলনরত শেকৃবির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখন বাণিজ্য মেলা অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে, সে অনুযায়ী আমাদের মাঠ আমরা ফেরত চাই। এখানে আপনারা কিভাবে সচিবালয়ের মতো স্থাপনা করতে চান? সচিবালয়ের যে গঠন সেই গঠন অনুযায়ী এই জায়গাটা যথেষ্ট নয় সুতরাং এখানে সচিবালয় নির্মাণ কখনো যুক্তিযুক্ত হতে পারে না।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, ছাত্রদের উত্তেজিত করবেন না। ফ্যাসিস্টরা ছাত্রদেরকে উত্তেজিত করে কি পরিমাণ ভোগান্তিতে পড়েছে এটা সবাই দেখছে। এই গবেষণার মাঠ যার ছিল তাকে ছেড়ে দেন এবং এখানে গবেষণা করার সুযোগ দেন।’
তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, রক্তের ওপর দিয়ে এখানে সচিবালয় নির্মাণ করতে হবে।


