ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ, ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে সারা দেশে আন্দোলন তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামীকালের উপনির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা প্রমাণের পরীক্ষা।
তিনি বলেন, ‘যদি ব্যতিক্রম কিছু ঘটে, তাহলে গোটা বাংলাদেশে এই আন্দোলন তুমুল পর্যায়ে চলে যাবে। সেই পরিস্থিতি হোক আমরা চাই না।’
বৈঠকে জোটের পক্ষ থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে সেনা মোতায়েন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলামকে প্রত্যাহার, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশে কার্যকর নজরদারির দাবি জানানো হয়।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ইউএনওকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার কথা কমিশন জানিয়েছে। তবে তাকে প্রশাসনিক পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়নি। এতে নির্বাচনে তার প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থেকে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
হামিদুর রহমান বলেন, ‘শুধু কাজ থেকে বিরত রাখার মধ্য দিয়ে কিন্তু এই ইনফ্লুয়েন্স বন্ধ হবে না।’
ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারে বাধা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও কমিশনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তার দাবি, ঠাকুরগাঁওয়ে হিন্দু ভোটারদেরও হুমকি-ধমকি ও মারধর করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় হিন্দু ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার।’
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আশ্বাস বক্তব্য সমাধান নয়। কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে এটাই সমাধান।’
সেনা মোতায়েনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশন পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকার কথা জানালেও এসব বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তাদের সন্তুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন বলে তারা মনে করেন।
এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সিসিটিভির মাধ্যমে ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশ পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে জোট। কমিশন অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
ভোটে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে কি না, জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা তো ইলেকশন করার জন্যই প্রার্থী দিয়েছি। ইলেকশন না থাকা, প্রার্থী না থাকার তো আমরা পরিস্থিতি যদি ভোটের দিনও সেই পর্যায়ে যায়, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, সরকারের হস্তক্ষেপে নির্বাচনসংক্রান্ত রোডম্যাপ পরিবর্তন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভোটার স্থানান্তর নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে জোট।
এর আগে, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম এবং বিশৃঙ্খলার অভিযোগ কমিশনের কাছে তুলে ধরেছে ১১ দলীয় জোট। নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন ও ভোট-পরবর্তী কার্যক্রমে কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার ওপর তারা গুরুত্ব দিয়েছেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবরের লং মার্চসহ জোটের চলমান কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনের পরিস্থিতি আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।


