ঝালকাঠিতে ২০১৪ সালে নাসির উদ্দিন হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া পারুল বেগমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত বলে অভিযুক্ত খোকন হাওলাদারের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে দুই আসামিকেই খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মো. নুরুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স খারিজ এবং আসামিদের আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেয়। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিনকে পারুল বেগম এবং খোকন হাওলাদার গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই সোহরাব হাওলাদার কাঁঠালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে ৭ ফেব্রুয়ারি পারুল বেগম ও ৮ ফেব্রুয়ারি খোকন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কাঁঠালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম, ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তী সময়ে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর ঝালকাঠির জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে খোকন হাওলাদারকে মৃত্যুদণ্ড ও পারুল বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
খোকন হাওলাদারের বাড়ি ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পূর্ব কৈখালী গ্রামে ও পারুল বেগমের বাড়ি একই উপজেলার শৌলজালিয়া গ্রামে। বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দণ্ডিত দুই আসামি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।


