স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মসূচিতে সারা দেশে টিকাদান বন্ধ

স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মসূচিতে সারা দেশে টিকাদান বন্ধ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ছয় দফা দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তারা ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

গত সোমবার বিকালে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি থেকে মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নেওয়ার এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়ক মো. ওয়াসি উদ্দিন রানা ও সদস্য সচিব ফজলুল হক চৌধুরী।

সারা দেশ থেকে হাজারও স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এই কর্মবিরতির কারণে দেশের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার আউটরিচ ইপিআই কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। নির্ধারিত টিকা না পেয়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন মা ও শিশুরা। আন্দোলনকারীরা আবার কবে টিকাদান শুরু করবেন–তা এখনো পরিষ্কার নয়।

স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে–নিয়োগবিধি সংশোধন, বেতন বৈষম্য দূর করা এবং টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দেওয়া।

দাবি না মানলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাস্থ্য সহকারীরা জানান, চাকরি ১৬তম গ্রেড থেকে ১৪তম গ্রেডে উন্নীত করা, নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত করা এবং ডিপ্লোমা ডিগ্রির সরকারি স্বীকৃতি প্রদানসহ অন্য দাবিগুলো মেনে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না করা পর্যন্ত তারা কর্মস্থলে ফিরবেন না।

আরও পড়ুন

এর আগে, গত অক্টোবরেও তারা একই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। তবে সে সময় সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে কাজে ফিরে যান আন্দোলনকারীরা।

তবে মাস পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো দাবি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনরতরা।  

জনগণের সেবা বন্ধ করতে চান না জানিয়ে তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার কারণে ‘বাধ্য হয়ে’ এ আন্দোলনে নেমেছেন।

আন্দলনকারীদের দাবি, তারা অন্তত ১০টি প্রাণঘাতী শিশুরোগ প্রতিরোধে টিকা দেওয়ার সামনের সারির কর্মী এবং দেশে গুটিবসন্ত ও পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার কমানো এবং এমআর, কোভিড-১৯, এইচপিভি এবং টিসিভি টিকাদানের কর্মসূচি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অথচ তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, ২৭ বছর ধরে শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘আমরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে যাব না। মা-শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়লে তার দায় কর্তৃপক্ষের।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর