স্বাস্থ্যখাতের আলোচিত ঠিকাদার মিঠু ৫ দিনের রিমান্ডে

স্বাস্থ্যখাতের আলোচিত ঠিকাদার মিঠু ৫ দিনের রিমান্ডে
আলোচিত ঠিকাদার মিঠুর পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় স্বাস্থ্যখাতের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার শুনানিতে মিঠুর রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তবে দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এর বিরোধিতা করে রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। দুই পক্ষের শুনানি শেষে তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ।

এর আগে, ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার নিউমার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর তাকে দুদকে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। ওইদিনই আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবারের দিন ধার্য করেন।

রিমান্ডের আবেদনে বলা হয়, আসামি অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ স্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৫ কোটি ৮০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখল করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ ও উন্নয়ন কাজের নামে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগসহ দেশে এবং দেশের বাইরে  নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তার নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। সুষ্ঠ অনুসন্ধান ও মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে তথ্য উদঘাটনের জন্য আসামির ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইস ও টেকনোক্রেট নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক আসামি মিঠু কৃষিজমি ক্রয়, জমি লিজ, প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণে মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানিতে শেয়ার ও বিনিয়োগ, গাড়ি ক্রয়, ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী মিলিয়ে আরও ৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ তার নামে পাওয়া গেছে। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এছাড়া মিঠুর নামে পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সম্পদ ও ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের হিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অন্যদিকে, অনুসন্ধানে বৈধ উৎস পাওয়া গেছে ৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার। অর্থাৎ বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ৭৫ কোটি ৮০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad