ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা জাদুঘরের দেয়ালে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি একটি বিক্ষোভ মিছিল আওয়ামী লীগ বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করে এবং ম্যুরালে শেখ মুজিবের ছবি সম্বলিত স্থান ভাঙচুর করে।
এমন দিনে এই ম্যুরাল ভাঙচুর করা হলো, যেদিন ঘিরে অনলাইনে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনলাইনে এই কর্মসূচির পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন।
গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা বলছেন, এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগ।
এরই মধ্যে শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভাঙচুরের খবর এল।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি মিছিল ওই স্থাপনার দিকে এগিয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর ছবির হাট গেট দিয়ে তারা উদ্যানে থেকে বের হয়ে যায়।’
এই স্থাপনাটি ওই আনসার সদস্যদের দায়িত্বের আওতায় নয় জানিয়ে এ বিষয়ে আর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীও একই ধরনের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একটি মিছিল এসে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এরপর তারা ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়।’
একই দিন দুপুরে ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের ‘প্রেরণা-৭১’ চত্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্যও বলুডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলার সাবেক সদস্যসচিব সাইদুর রহমান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীসহ অন্যরা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর গত এক বছরের বেশি সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট অনেক ভাষ্কর্য, ম্যুরাল, স্থাপনা ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।
গত বছরের আগস্টেই ভাঙচুর চালানো হয় শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের (পুরনো) বাড়ি। যেটি আওয়ামী লীগ শাসনামলে ‘বঙ্গবন্ধু জাদুঘর’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোটা বাড়িটিই প্রায় ভেঙে ফেলা হয়, লুটপাট করা হয় ভেতরের সমস্ত সামগ্রী। এমনকি ইটের দেয়াল ভেঙে ভেতর থেকে রডও বের করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে অনেককে।


