মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হাতির আক্রমণের শিকার হয়েছেন পশু চিকিৎসকসহ বন বিভাগের ১৫ কর্মী। ওই হাতিটিকে চিকিৎসা দিতে শুক্রবার বিকেলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে যান তারা। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বন কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, গত ১০ আগস্ট মিয়ানমারের সীমান্তে নাইক্ষ্যংছড়িতে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে হাতিটি আহত হয়। ওই রাতেই হাতিটি নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি ও আশারতলির মাঝামাঝি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসে।
গ্রামবাসীর কাছে খবর পেয়ে আহত হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা জানান, মাইনের স্প্রিন্টারে হাতিটির সামনের ডান পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। হাতিটি তিন পায়ে ভর করে কক্সবাজারের রামু উপজেলার দারিয়াদীঘি সংরক্ষিত বনে অবস্থান নিয়েছে।
রামু উপজেলার রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা আলী নেওয়াজ জানান, আহত অবস্থায় বাংলাদেশে আসা হাতিটির সুচিকিৎসা নিশ্চিতে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাদ জুলকারনাইন ও গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ ১৫ জন বন কর্মকর্তা দারিয়াদীঘির গভীর বনে যান।
তিনি জানান, হাতিটিকে খুঁজে পাওয়ার পর তারা ধীরে ধীরে প্রাণীটির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই হাতিটি হিংস্র হয়ে উঠে পেছন থেকে সবার ওপরে আক্রমণ করে। এতে চিকিৎসক ও পর্যবেক্ষক দলের সবাই আহত হন। এমনকি হাতিটি নিরাপত্তাকর্মীদের একটি বন্দুকও কেড়ে নিয়ে বনের গভীরে ফেলে দেয়। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়।
আলী নেওয়াজ জানান, আহত দুই পশু চিকিৎসককে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। বাকিরা কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের পশু চিকিৎসকরা জানান, পায়ের ক্ষতের যন্ত্রণা নিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছে হাতিটি। রক্তক্ষরণ ও পানিশূন্যতায় এটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রাণীটিকে রক্ষায় এর দীর্ঘমেয়াদে নিবিড় পরিচর্যা দরকার।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তারা বলছেন, চিকিৎসা দিতে গিয়ে বনকর্মীরা আহত হলেও হাতিটির গতিবিধির ওপর এখনও নজরদারি চলছে। তারা আহত হাতিটিকে চিকিৎসা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।


