‘সোনা চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জনের’ অভিযোগে শ্যাম ঘোষের নামে থাকা ১০ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। বুধবার বিষয়টি জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র মহানগর স্পেশাল জজ আদালত সম্পদ জব্দের ওই আদেশ দেন।
সিআইডি জানায়, ‘সোনা চোরাকারবারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগে শ্যাম ঘোষের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে ঢাকা কোতোয়ালী থানায় মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর তদন্তে উঠে এসেছে, সোনা ব্যবসায়ী শ্যাম ঘোষ কর্মজীবনের শুরুতে ঢাকার সূত্রাপুরে পৈত্রিক হোটেলে কাজ করতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সোনার দোকানে চাকরির মাধ্যমে ‘অবৈধভাবে পাওয়া সোনা’ কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কেনাবেচা শুরু করেন। এমনকি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী, অভিযুক্ত শ্যাম ঘোষ আয়ের উৎস গোপন করেছেন।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, সোনা চোরাকারবারের অর্থ দিয়ে শ্যাম ঘোষ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ও দোকান গড়ে তুলেছেন। তার মধ্যে যমুনা ফিউচার পার্কের ষষ্ঠ তলায় তিনটি দোকান এবং ‘ইন্ডিয়ান ডোমেস্টিক স্পাই’ নামে একটি রেস্তোরাঁ অন্যতম।
এছাড়া কোতোয়ালী এলাকায় ওয়াইজঘাটে ‘বাবুলী স্টার সিটি’ ভবনের পঞ্চম তলায় একটি ফ্ল্যাট এবং স্বামীবাগের ‘স্বর্ণচাপা’ ভবনের ষষ্ঠ তলায় নিজ ও তার ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন ফ্ল্যাট আছে তার।
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে ‘নন্দন জুয়েলার্স’ নামে তার একটি তার যৌথ মালিকানাধীন সোনার দোকানও রয়েছে।
এরই মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, তার কাছে থাকা অবৈধ উপায়ে গড়ে তোলা সম্পত্তি জব্দ করে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনারকে।
সিআইডি ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট এ সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।


