দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ এখন ২৯টি ব্যাংকের ওপর চেপে বসেছে। এই বিপুল দায় পুনর্গঠনে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধান খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসার পরই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। প্রথমে তিনটি শীর্ষ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সমস্যাটি বিশ্লেষণ করতে বলা হয়। পরে তারা সংশ্লিষ্ট ২৯টি ব্যাংককে নিয়ে বৈঠক করেছেন। একটি সমাধান তৈরির চেষ্টা চলছে।’
গভর্নর স্পষ্ট করেন, এই সংকটের পেছনে শুধু ডলারের বিনিময় হারকে দায়ী করা ঠিক হবে না।
তিনি জানান, মঙ্গলবারও বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুটি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সমাধান প্রায় চূড়ান্ত। আগামী তিন মাসের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন শুরু করা গেলে সিটি গ্রুপ সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।
গভর্নরের তথ্যমতে, এখানে প্রায় ২২ থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার দায় রয়েছে। ব্যাংকগুলো একটা সমাধান বের করেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিদেশি ঋণ ও বিনিময় হার ঝুঁকি নিয়েও কথা বলেন গভর্নর। তিনি জানান, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৭ বিলিয়ন ডলার পার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় স্বল্পমেয়াদে বড় কোনো বিনিময় হার ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে জ্বালানি বাজারে নতুন কোনো বৈশ্বিক অস্থিরতা তৈরি হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।


