ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির অমর নায়ক সালমান শাহ। অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন রূপালি পর্দার রাজপুত্র। তার সঙ্গে জুটি বেঁধে আসেন শাবনূর—এবং মাত্র চার বছরে এই জুটি ১৪টি ছবিতে কাজ করে গড়ে তোলেন এক অনন্য অধ্যায়। সময় পেরিয়েছে তিন দশক, তবু সালমান–শাবনূরের জুটির আবেদন অমলিন। এ জুটির মধ্যে প্রেম ছিল, এমন গুঞ্জন এখনও শোনা যায়। তবে বরাবরের সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শাবনূর তা অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন শাবনূর। সালমানকে নিয়ে তিনি বলেন, “সালমান আর আমাকে নিয়ে অনেক গল্প ছড়িয়েছে। কিন্তু সত্য হলো, সালমানের কোনো বোন ছিল না, তাই আমাকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন। ‘পিচ্চি’ বলে ডাকতেন। আমিও তাকে ভাইয়ের মতো দেখতাম, তবে আমাদের বন্ধুত্ব ছিল দারুণ।”
সেই সময়ের সহকারী মুনসুর আলীও বলেন, সালমান সব নায়িকাকেই সম্মান করতেন, শাবনূরকে দেখতেন আপন বোনের চোখে। শাবনূরের সঙ্গে সালমানের প্রথম দেখা হয়েছিল এফডিসিতে, মৌসুমীর একটি শুটিংয়ে। পরে ‘তুমি আমার’ ছবিতে তাদের প্রথম জুটি গড়ে, যা ছিল বিশাল সাফল্য। শাবনূরের ভাষায়, ‘আমাদের বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ—একই দৃশ্যে চোখের ইশারাতেই একে অন্যকে বুঝে ফেলতাম।’
তবু গুঞ্জন থামেনি—তাদের সম্পর্ক প্রেমের ছিল বলে। শাবনূর এ বিষয়ে বলেন, ‘সালমানকে আমি ভাই ছাড়া অন্যভাবে কখনো দেখিনি। কিছু মানুষ আমাদের সম্পর্ক নিয়ে গল্প বানিয়েছে, কেউ সেটা দিয়ে ব্যবসাও করেছে। এতে আমি কষ্ট পেয়েছি।’
সালমানের স্ত্রী সামিরা হক সম্পর্কেও শাবনূর বলেন, ‘সামিরা আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। শুটিংয়ে প্রায়ই থাকত। সে নিজে আমার হাতে চুড়ি পরিয়েছে, পোশাক মিলিয়েছে—আমরা সত্যিই সুন্দর সময় কাটিয়েছি।’
সালমানের মৃত্যুর সংবাদ ছিল শাবনূরের জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা। তিনি বলেন, ‘শুনে বিশ্বাস করতে পারিনি, ভেবেছিলাম কেউ মজা করছে। পরে নিশ্চিত হয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম।’
স্মৃতির ভেতর ফিরে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘সালমান বেঁচে থাকলে বাংলা চলচ্চিত্রের চেহারাটা ভিন্ন হতো। হয়তো উত্তম কুমার–সুচিত্রা সেনের মতো আমাদের জুটিও কিংবদন্তি হয়ে থাকত।’
শেষে তিনি বলেন, ‘যদি কখনো সালমানের সঙ্গে দেখা হতো, জিজ্ঞেস করতাম—কেন চলে গেলে? এত সাফল্য, এত ভালোবাসা পেয়েও কী ছিল তোমার কষ্ট?’
সালমান–শাবনূর অভিনীত ১৪টি ছবির মধ্যে রয়েছে—‘তুমি আমার’, ‘বিক্ষোভ’, ‘সুজন সখি’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’। সালমান আজ নেই, কিন্তু পর্দায় আর দর্শকের হৃদয়ে তাদের নাম এখনো পাশাপাশি উচ্চারিত হয়—বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে প্রিয় জুটি হিসেবে।


