জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মধ্যকার একটি টেলিফোন আলাপ শোনানো হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে।
সোমবার এদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ এই ফোনালাপ উপস্থাপন করে।
সেই ফোনালাপে শোনা যায়, তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ করছেন। আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দিতে হবে’ বলে সালমান এফ রহমানকে বলেন আনিসুল হক।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, তাদের এই বক্তব্য হত্যাকাণ্ডে উস্কানি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, ষড়যন্ত্র, সিস্টেমেটিক হামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা করেছে। মিরপুরে ১৪ জনকে হত্যা ও ৫ আগস্ট মিরপুর ২, ১০ ও ১৩ নম্বরে ১৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব বন্ধে আসামিরা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য ৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে। সেদিন আসামিপক্ষের অব্যাহতির আবেদনের ওপরেও শুনানি হবে।
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর সালমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এদের দুজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান ও আনিসুলকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানায়। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


