জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সোমবার গভীর রাতে তাকে ঢাকার ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তিনি এখন ডিবির হেফাজতে আছেন।
তবে তাকে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সহিংসতার ঘটনায় সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তিনি হত্যা মামলার আসামি।
রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন (৩৮) নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই বছরের ২৭ আগস্ট শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়।
মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে মামলাটি করেন রংপুর শহরের পূর্ব গণেশপুর এলাকার নিহত মুসলিম উদ্দিনের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার (৩২)। পরে আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে রংপুর মহানগরের কোতোয়ালি থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। এরইমধ্যে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন টিপু মুনশি।
শিরীন শারমিন রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথম স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। ২০১৮ সালের ভোটের পর গঠিত সংসদেও তিনি স্পিকার ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি বিতর্কিত নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের করে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে টানা তৃতীয়বারের মতো স্পিকার নির্বাচিত করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শিরীন শারমিন চৌধুরী সে বছরের ২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করে কার্যকর করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র- জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।


