উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউএপিইও) পদটিকে দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ১০ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অ্যাসোসিয়েশন। আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সোমবার রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে চাকরির গ্রেড বৃদ্ধির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরেই এ দাবিতে দেন-দরবার করে আসছিলেন তারা।
১৯৯৪ সালের পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ১৮তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে এবং ও প্রধান শিক্ষকরা ১৭তম গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ও পিটিআই সুপরিনটেনডেন্ট পদের গ্রেড নবম থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে হয়েছে ষষ্ঠ। পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর পদটি তৃতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে বা নবম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু ১৯৯৪ সালেও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের গ্রেড ছিল দশম, এখনো তা তেমনই আছে। তাই চাকরির গ্রেড বৃদ্ধির বিষয়টি যতটা না আর্থিক, তারচেয়ে বেশি সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের জন্য।
কর্মকর্তারা বলেন, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে উন্নীত হচ্ছেন। কিন্তু তাদের প্রশাসনিক তত্ত্বাবধান, মনিটরিং. এসিআর প্রদান ও ছুটি প্রদান করে থাকেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা। এ কারণে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা পদটি নবম গ্রেডে উন্নীত করা প্রয়োজন।
তারা আরও জানান, বর্তমানে ১ হাজার ৭২৭ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে কর্মরত। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৬০ জন কর্মকর্তা উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পেয়ে ইতোমধ্যে সপ্তম, অষ্টম বা নবম গ্রেডের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তাই উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা পদটিকে নবম গ্রেডে উন্নীত করলে মাত্র ২৬৭ জন কর্মকর্তার জন্য অতিরিক্ত অর্থ লাগবে। এতে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। সরকারের ওপর কোনো চাপ পড়বে না।


