সরাইলে ২ নৃত্যশিল্পী ধর্ষণের ঘটনায় আসকের ক্ষোভ, দ্রুত বিচারের দাবি

সরাইলে ২ নৃত্যশিল্পী ধর্ষণের ঘটনায় আসকের ক্ষোভ, দ্রুত বিচারের দাবি
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে তিতাস নদীর মাঝখানে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

রোববার এক সংবাদ বিবৃতিতে সংগঠনটি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

আসকের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে নেওয়ার কথা বলে দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে নৌকায় তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা হয়। পরে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ধর্ষণ করা হয়।

এ ঘটনাকে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করে আসক বলেছে, এটি তাদের পেশাগত অধিকার এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকারের ওপরও গুরুতর আঘাত।

সংগঠনটি আরও বলেছে, একজন নারী তার পছন্দের পেশায় যুক্ত থেকে সম্মানের সঙ্গে কাজ করবেন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাবেন—এটি তার মৌলিক অধিকার। নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করা কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিবেশনা করা কাউকে সহিংসতা বা নিপীড়নের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে না। প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদে কাজ করার অধিকার রয়েছে এবং এ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

আরও পড়ুন

আসকের মতে, ঘটনাটিকে শুধু কয়েকজন ব্যক্তির নৃশংস অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা, আইন প্রয়োগ এবং নারীর নিরাপদ চলাচল ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এ ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে আসক দাবি করেছে, ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কারণে যেন কোনো অপরাধী আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের পরিচয় ও গোপনীয়তা সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে আসক।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে, নারীর নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সমঅধিকার, মর্যাদা ও মানবাধিকারের প্রশ্ন। নারীরা যাতে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা ছাড়াই তাদের পছন্দের পেশায় কাজ করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর