সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিল বিরোধী দল। তবে সরকার সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, এখন থেকে সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল।
রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আয়োজনে ‘জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে বিএনপি সরে আসছে। দলটি অবস্থান বদলালেও বিরোধী দল তাদের অবস্থানে অটল থাকবে। তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ ও সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও করেন।
বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি দেশের চেয়ে নিজেদের ও পরিবারের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা, বৈষম্যহীন সমাজ গড়া এবং ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করাই বিরোধী দলের লক্ষ্য। এ আন্দোলনে জ্বালাও-পোড়াও হবে না বলেও জানান তিনি।
সভায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব থেকে সরে আসছে। তথ্য অধিকার আইন, সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বজনদের পুলিশে পদায়ন ঘিরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তুলেও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার রয়েছে। এর অনেক কিছুই বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হতে পারে।


