ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিল হলেও সাধারণ রোগীদের বৃহত্তর স্বার্থে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ চেয়েছে ঢাকার মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত এই সেবা সচল রাখার সুযোগ চেয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুলের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়টি নবজাতক শিশুর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের এই আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের অন্যতম চিকিৎসাস্থল হিসেবে পরিচিত মগবাজারের এই হাসপাতালটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরেও বর্তমানে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক নিয়মে সচল রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৪১৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন এবং আজ ১১ জুন বহির্বিভাগে (ওপিডি) প্রায় ১ হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতেও বিপুল সংখ্যক আশঙ্কাজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালের এনআইসিইউতে ৬০ জন নবজাতক শিশু, আইসিইউতে২০ জন এবং সিসিইউতে ৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
গত ২৭ মে ভোররাতে আদ-দ্বীন হাসপাতালের অস্ত্রোপচার পরবর্তী ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) তিন সদস্যের উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় একাধিক ত্রুটি, পরিবেশগত সমস্যা ও ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক-নার্সদের অবহেলা চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ার্ডটি নবজাতক বা অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো ও বায়ুচলাচলের অভাব ছিল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটি ছিল অপর্যাপ্ত, কাজ করত অনিয়মিতভাবে।
তদন্তে আরও দেখা গেছে, ঘটনার সময় ওয়ার্ডে কোনো ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন না। নবজাতকদের অবস্থার অবনতি হলেও তারা সময়মতো চিকিৎসা পায়নি।


