‘সমসাময়িকদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন লারমা’

‘সমসাময়িকদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন লারমা’
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আলোচনা সভা হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রহমান মিলনায়তনে ‘জাত্যভিমানী সংবিধানের খেরোখাতায় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সংবিধান দর্শন’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি এ সভার আয়োজন করে। এতে লেখক ও গবেষক ফিরোজ আহমেদ, অধ্যাপক আমেনা মহসিন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারুফ মল্লিক, দীপায়ন খীসা, ঈশিতা দস্তিদার ও মেইনথিন প্রমীলা বক্তব্য দেন।

আমেনা মহসিন বলেন, ‘১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের সময় পাহাড়িদের সংকট ছিল। সে সময় ভিন্ন জাতির অধিকার নিয়ে এম এন লারমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা তুলে ধরে তিনি সংবিধানের ত্রুটিও বিশ্লেষণ করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এম এন লারমা তার সমসাময়িক সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন। বর্তমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্যে কতটুকু অন্তর্ভুক্তি সম্ভব, সেটি প্রশ্ন। পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতন্ত্র চর্চার বিষয়টিও আলোচনায় আনা প্রয়োজন।’

ঈশিতা দস্তিদার বলেন, ‘মানুষের জীবন ও অধিকারের নানা বিষয়ের সঙ্গে লারমার সংবিধান দর্শন জড়িত। এটি কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়। বর্তমান পরিবেশ বিপর্যয়ের সময়ে তাঁর পরিবেশ-প্রতিবেশ দর্শনও প্রাসঙ্গিক।’

আরও পড়ুন

দীপায়ন খীসা বলেন, ‘বিএনপি ও তারেক রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ স্পষ্ট নয়। লারমার জাতীয়তাবাদী দর্শন অধিক স্পষ্ট ও বৈজ্ঞানিক।’

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, এম এন লারমা ১৯৭২ সালেই গণপরিষদে তা বলেছিলেন।’

মেইনথিন প্রমীলা বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করা হোক, আদিবাসীরা আদিবাসীই। নানা ন্যারেটিভের মাধ্যমে তাদের রাষ্ট্রীয় অধিকার ধামাচাপা দেওয়া হয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য এম এন লারমার সংবিধান দর্শন পর্যালোচনা করা উচিত।’

ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কিছু সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক ব্যক্তির বাণিজ্যিক খুঁটি। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সেখানে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও মুনাফা করা হচ্ছে।’

মারুফ মল্লিক বলেন, ‘সংবিধানে চাপিয়ে দেওয়া বাঙালি জাতীয়তাবাদ বহুত্ববাদী অন্তর্ভুক্তির পথে বাধা। ১৯৭২ সালে লারমার দেওয়া বক্তব্য বর্তমান রাষ্ট্রের কাছেও প্রাসঙ্গিক।’

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক পাভেল পার্থ। তিনি বলেন, ‘লারমার সংবিধান দর্শনে জুম চাষ, কৃষি, রাজস্ব, উৎপাদন, পরিবেশ-প্রতিবেশ, শোষিত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নারী প্রশ্ন স্থান পেয়েছে। এটি বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের ধারণাকে ধারণ করে।’

কাপ্তাই বাঁধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ, জনপদ, চাষযোগ্য ভূমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কা লারমার পরিবেশ দর্শনে প্রতিফলিত হয়েছিল।’

আদিবাসী স্বীকৃতির প্রসঙ্গে পাভেল পার্থ বলেন, ‘বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আদিবাসীদের অস্তিত্বের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। সংসদ ভবন মণিপুরী আদিবাসীদের ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দেশের প্রথম বিমানবন্দরও কুর্মি জনগোষ্ঠীর ভূমি কুর্মিটোলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর