সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, জামায়াতের এমন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেছেন, সেখানে কোনো বৈঠক হয়নি, দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতাদের ডেকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজকে কোনো বৈঠক ছিল না। যেহেতু তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান, ওনাকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছিলাম, উনি আমাদের ডেকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।’
এর আগে দুপুর ২টার পর আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে যায়। দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে তারা নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও সমর্থক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
সচিবালয়ে বিএনপির প্রার্থিতার বিষয়ে বৈঠক সম্পর্কে জামায়াতের সমালোচনার জবাবে প্রতিনিধিদলের আরেক সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন দল থেকে এবং এই দল তাকে মনোনীত করেছে। দলের মিটিং যেখানে হয়েছে, সেটা কোনো মিটিং নয়, যেটা হয়েছে আমরা আলোচনা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আলোচনা বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় হতে পারে। আগেই সিদ্ধান্ত ছিল, সেটা আমাদের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন।’
একই বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এটা স্থায়ী কমিটির বৈঠক ছিল না। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আগেই দলীয় চেয়ারম্যানকে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
বিএনপির প্রার্থীর বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দল ও জোট থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ তারিখে (আগস্ট) নির্বাচিত করতে চাই।’
১১-দলীয় ঐক্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, নির্বাচিত হচ্ছি, নির্বাচন করছি। ১৭ বছর আন্দোলন করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সংসদ গঠন করেছি। সংসদে দেশের কার্যক্রম চলছে এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সবাই পরিশ্রম করছেন। সবাই ১৭ বছরের জঞ্জাল গত ৫ মাসে যতখানি সম্ভব তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি, ভবিষ্যতে আরও করার চেষ্টা করব। তারই ফলশ্রুতিতে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘গণভোটের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। গণভোট পুরোপুরি মানাও যাবে, না মানাও যাবে। কিন্তু আমরা মানব। সেই গণভোটটা আমরা পর্যায়ক্রমে সংসদে প্রতিফলিত করব। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা একটা আলাদা বিষয়। এটা নিয়ম রক্ষার কথাটা সঠিক না। হয়ত আপনারা বলতে পারেন তারা পরাজিত হবে জেনেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান না করে অংশগ্রহণ করছে, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তাদের অভিন্দন জানাই।’
বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কে হচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এটার জন্য অপেক্ষা করেন, পরে শুনবেন।
বিএনপির নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, জাতীয় জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউস, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী, আবদুস সালাম আজাদ, ইমরান সালেহ প্রিন্স।


