জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণকে ঘিরে নজিরবিহীন হট্টগোল, স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। তীব্র বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বিরোধী জোটের সদস্যরা ওয়াক আউট করেন।
অধিবেশন চলাকালে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দেন। এ সময়ই বিরোধী সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভের মধ্যেই বিউগলের সুর বেজে ওঠে এবং অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি স্পিকারের ডান পাশে নির্ধারিত আসনের সামনে দাঁড়ান। এ সময় জাতীয় সংগীত বাজতে থাকে এবং অধিবেশন কক্ষের মনিটরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হয়।
সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীতে শ্রদ্ধা জানালেও বিরোধী জোটের সদস্যরা শুরুতে আসনে বসে থেকে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। পরে জাতীয় সংগীতের মাঝামাঝি সময়ে বিরোধী সদস্যরাও দাঁড়ান।
জাতীয় সংগীত শেষ হলে রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত আসনে বসেন। এ সময় জামায়াত ও এনসিপি জোটের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন এবং রাষ্ট্রপতিকে ধিক্কার জানান। তারা রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে ‘খুনী’, ‘কিলার চুপ্পু’, ‘ফ্যাসিস্ট চুপ্পু’, ‘গেট আউট চুপ্পু’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
স্পিকার বারবার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। এদিকে, রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারিত ভাষণ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
বিরোধীদলীয় উপনেতা আব্দুল্লাহ মো তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বিরোধী সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। তারা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ-গণতন্ত্র একসাথে চলবে না’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা, হুঁশিয়ার সাবধান’।
এ সময় তারা টেবিল চাপড়ে এবং চিৎকার করে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।
হট্টগোলের মধ্যে বিএনপির কয়েকজন সদস্য বিরোধীদের উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা ঠিক কাজ করছেন না। রাষ্ট্রপতি আংশিকভাবে মানছেন, আংশিকভাবে মানছেন না–তাকে অসম্মান করা হচ্ছে। এ সময় সরকারি দলের অধিকাংশ সদস্য নীরবে আসনে বসে থাকেন।
বিক্ষোভের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা মাইক ছাড়াই রাষ্ট্রপতির ইমপিচমেন্ট, পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী। এই সংসদে আমরা তার ভাষণ মেনে নিতে পারি না।’
এ পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ আসন ছেড়ে রাষ্ট্রপতির ডায়াসের দিকে এগিয়ে গেলে বিরোধীদলীয় উপনেতা তাকে বাধা দেন এবং দুই হাত প্রসারিত করে বিরোধী সদস্যদের বাইরে নিয়ে যান।
প্রায় চার মিনিট অচলাবস্থার পর রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। তবে এর মধ্যেও বিরোধী সদস্যদের বিক্ষোভ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে স্লোগান দিতে দিতে বিরোধী সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
পরে রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারিত ভাষণ শেষ করেন এবং স্পিকার অধিবেশন আগামী রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত মূলতবি ঘোষণা করেন।


