একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অশালীন আচরণের দায়ে একরামুল ইসলাম নামে এক শিক্ষককের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষককের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার জব্দ করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক একরামুল ইসলাম ছাত্রীদের সাথে যৌন হয়রানী ও অশালীন আচরণ করে আসছিলেন। কাউকে জানালে পরীক্ষায় ফেল করানোসহ নানা ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক একরামুল ইসলামের শাস্তির দাবীতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ করে। এসময় প্রধান শিক্ষক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সম্রাট হোসেন, এ্যাসিল্যান্ড মাহির দায়ান আমিন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাফ্ফর হোসেন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ইউএনও’র কাছে শিক্ষক একরামুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়।
তিনি মাধ্যমিক মাউশি’র (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর) খুলনা বিভাগীয় পরিচালকসহ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। এরপর অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা শ্রেনিকক্ষে ফিরে যায়।
প্রধান শিক্ষক একেএম তছির উদ্দীন জানান, রোববার শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার জন্য ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউএনও মো. সম্রাট হোসেন জানান, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। ওই শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য করনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
মনিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর(ওসি) আবু সাঈদ শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই শিক্ষককের ব্যবহৃত ফোন ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


