কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুর্বৃত্তের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম রাকিবের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা। এরপর মৃতদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির।
প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, রাকিবের ডান চোখের পিছনে একটি ছিদ্র এবং পিঠের বাম পাশে ও ডান পাশে দুটি ছিদ্র রয়েছে। এছাড়া তার বাম কানের পেছনে, কপালে, বুকের ডান পাশে, পেটে ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের বেশ কিছু গুরুতর জখম রয়েছে।
গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় সুরতাল প্রতিবেদনে।
মর্গে মরদেহ বুঝে নিতে এসেছিলেন নিহতের স্ত্রী হাবিবা আক্তার।
তিনি জানান, তারা পুরান ঢাকার চানখারপুলে বাস করেন। রোববার ইফতারের পর রাকিবের বড় ভাই গুলিস্তান থেকে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তখন রাকিব ভাইকে চানখারপুল যেতে বলেন। সন্ধ্যা ৭টার পর রাকিব বাসা থেকে বের হয়ে বড় ভাইকে চানখারপুল থেকে নিয়ে শহীদ মিনারে যায়। সেখানে আড্ডা দেওয়ার সময় কেউ একজন তাকে ডেকে একপাশে নিয়ে যায়।
এরপরই রাকিবকে গুলি করে ও কুপিয়ে মেরে ফেলা হয়।
রাকিবের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল কিনা জানতে চাইলে হাবিবা বলেন, ‘কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমি বলতে পারছি না। তবে এক সপ্তাহ আগে তার কাছে ফোন এসেছিল একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন করে দিতে। তারা রাকিবকে বিজ্ঞাপনের জন্য ২০ হাজার টাকা দিতে চায় এবং সেজন্য খিলগাঁও যেতে বলে। তবে অপরিচিত হওয়ায় রাকিব সেখানে যেতে রাজি হয়নি। পণ্য চানখারপুল পাঠিয়ে দিতে বলে। তবে তারা তা দেয়নি। এরপর আরেকটি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে একইভাবে উত্তরা যেতে বলে। এরপর কথায় কথায় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সেসময় ফোনের ওপাশ থেকে রাকিবকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।’
এর বাইরে মাসখানেক আগে রাকিবের একটি কন্টেন্টে কমেন্ট করা নিয়ে খুলনার এক নারী কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের স্বামীর সঙ্গে কিছুটা ঝামেলা হয়। ওই নারীর সঙ্গে রাকিব আগে কন্টেন্ট তৈরি করতেন বলেও জানান হাবিবা।
চার বছর আগে বিয়ে করেন রাকিব-হাবিবা। রাকিবের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের অফিস সহায়ক আর মা রাজিয়া বেগম শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের স্টাফ হিসেবে কর্মরত।


