ফ্রান্সের প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘর থেকে মূল্যবান গয়না চুরির ঘটনায় দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, প্যারিস প্রসিকিউটরের অফিস জানিয়েছে, এর মধ্যে একজনকে ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় চার্লস দ্য গল বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের বরাত দিয়ে ফ্রান্সের গণমাধ্যম জানায়, ওই দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয় শনিবার সন্ধ্যায়। আটকের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজন আলজেরিয়া এবং অন্যজন মালি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিশেষ পুলিশ দল এ ঘটনার তদন্তে তাদের সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।
গত ১৯ অক্টোবর সকালে সাড়ে নয়টার দিকে ল্যুভর মিউজিয়ামে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা কৌশলে জাদুঘরে ঢুকে ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ানের সময়ের বিভিন্ন গয়না চুরি করে পালিয়ে যায়।
জাদুঘর থেকে চুরি যাওয়া বস্তুগুলো হল- ১৯ শতাব্দীর রানী মেরি-অ্যামেলি ও হরটেন্সের ব্যবহৃত নীলা ডায়াডেম (দুষ্প্রাপ্য নীল হীরার গয়না), গলার হার এবং কানের দুল, সম্রাট নেপোলিয়ানের দ্বিতীয় স্ত্রী সম্রাজ্ঞী মেরি-লুইজের পান্নাখচিত গলার হার ও কানের দুল, সম্রাজ্ঞী ইউজেনির ডায়াডেম এবং ১৯ শতাব্দীর ফরাসি সম্রাটদের সময়কার বো টাইয়ের ব্রোচ।
ল্যুভর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ডাকাত দল ঝুড়ির মতো লিফট (বাস্কেট লিফট) ব্যবহার করে জাদুঘরের সামনের দিকের জানালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ডিসপ্লে কেস (প্রদর্শনী বাক্স) ভেঙে ওই গয়নাগুলো চুরি করে। চোরেরা মাত্র চার মিনিটের মধ্যে কাজ শেষ করে সকাল ৯টা ৩৮ মিনিটে বাইরে অপেক্ষমান দুটি স্কুটারে পালিয়ে যায়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ওই গয়নাগুলো থেকে ২৫০ মিটার দূরেই ছিল বিশ্বখ্যাত ‘মোনালিসা’ চিত্রকর্ম। পুরো চুরির ঘটনাটি আট মিনিটেরও কম সময়ে শেষ হয়। চোরেরা চার মিনিটেরও কম সময় জাদুঘরের ভিতরে ছিলেন।
পালিয়ে যাওয়ার সময় অত্যধিক তাড়াহুড়ায় তারা নেপোলিয়নের তৃতীয় স্ত্রী সম্রাজ্ঞী ইউজেনির মুকুটটি ফেলে যায়। এ সময় ওই দলের ফেলে যাওয়া গ্লাভস ও একটি হাই-ভিজ জ্যাকেট (নিরাপত্তা জ্যাকেট) এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই এক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
ফরাসি গণমাধ্যম জানিয়েছে, জাদুঘরের যে অংশে ডাকাতি হয়, সেখানকার তিনটি কক্ষের মধ্যে একটিতেও কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না।
এই সপ্তাহে জাদুঘরের পরিচালক ফরাসি সিনেটরদের জানান, ল্যুভরের বাইরের প্রাচীরের একমাত্র ক্যামেরাটি ভুল দিকে ঘোরানো ছিল। আর ওই পথেই ডাকাত দল মিউজিয়ামে প্রবেশ করেছিল।
প্যারিস প্রসিকিউটর অবশ্য সময়ের আগেই মামলার তথ্য ফাঁস হওয়ায় রত্ন উদ্ধার ও চোরদের ধরার প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়েছে বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, রত্নগুলো ইতোমধ্যে শত শত টুকরোয় ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনার পর ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া মিউজিয়ামের সবচেয়ে মূল্যবান রত্নগুলোর মধ্যে কিছুসংখ্যক স্থানান্তর করা হয়েছে ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক দ্য ফ্রান্সে।
যেগুলো প্যারিসের কেন্দ্রে অবস্থিত ওই ব্যাংকের সদর দপ্তরের নিচতলা থেকে ২৬ মিটার (৮৫ ফুট) গভীরে অবস্থিত সবচেয়ে সুরক্ষিত ভল্টে সংরক্ষিত থাকবে।


