যুদ্ধ খুব ভালো চলছে: ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, তার মতে ইরানে হামলা চালানোর মতো কোনো লক্ষ্যবস্তুই আর অবশিষ্ট নেই।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ খুব ভালো চলছে এবং মার্কিন বাহিনী প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে।’
‘আমরা নির্ধারিত সময়সূচির চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি। এমনকি মূল ছয় সপ্তাহের যে পরিকল্পনা ছিল, তার চেয়েও আমরা বেশি ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছি।’
যদিও সমালোচকরা বলছেন, এই যুদ্ধে ট্রাম্পের লক্ষ্য বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। আর জনমত জরিপগুলোর তথ্য বলছে, অনেক মার্কিনিই এই সংঘাতের বিরোধিতা করছেন।
তেহরানে দূতাবাস বন্ধ করল সুইজারল্যান্ড
ইরানে নিযুক্ত দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করার তালিকায় যুক্ত হলো সুইজারল্যান্ডের নাম।

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, তেহরানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এবং পাঁচজন সুইস কর্মী স্থলপথে ইরান ত্যাগ করেছেন। তারা বর্তমানে দেশের বাইরে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছেন।
দপ্তরটি আরও যোগ করেছে, ‘পরিস্থিতি অনুকূলে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তারা আবার তেহরানে ফিরে যাবেন।’
কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আল-উদাইরি বিমানঘাঁটি, মোহাম্মদ আল-আহমদ নৌঘাঁটি এবং আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
বিবৃতিতে বাহিনী আরও দাবি করেছে যে, বাহরাইনে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা একটি নৌঘাঁটিতেও তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
ইরানে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানজুড়ে প্রায় ২০ হাজার বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই পাল্টাপাল্টি হামলা হামলা চলছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেড ক্রিসেন্টের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রায় ১৯ হাজার ৭৩৪টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে হাসপাতাল, স্কুল এবং সহায়তা কেন্দ্রও রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত ভবনগুলোর মধ্যে ৭৭টি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া সংস্থাটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭০
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫৭০ জন হয়েছে।
গত ২ মার্চ থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই পরিসংখ্যান জানিয়েছে আল জাজিরা। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেবল মঙ্গলবারই ৮৪ জন নিহত এবং ১৩১ জন আহত হয়েছেন।
সবশেষ বুধবার দক্ষিণ লেবাননের হাব্বুশ এবং আল-সাওয়ানা শহরে দুটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
সব মিলিয়ে এদিন লেবাননজুড়ে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট গুগল, মাইক্রোসফটে হামলার হুমকি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে গুগল, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ও অবকাঠামোতে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান।
দেশটির ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) বরাতে আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ব্যবহার করছে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট ওই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ইরানের ‘নতুন লক্ষ্যবস্তু’।
ইরানের বিরুদ্ধে তথ্য সরবরাহ ও নজরাদারি রাখার দাবি জানিয়ে এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে তাসনিম নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্চলিক যুদ্ধ এখন দেশগুলোর বিভিন্ন অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত হচ্ছে। তাই ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুর পরিধিও বাড়ছে।
তালিকায় উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- গুগল, মাইক্রোসফট, প্যালান্টির, আইবিএম, এনভিডিয়া এবং ওরাকল। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্লাউডভিত্তিক সেবার কার্যালয় ও অবকাঠামো ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশেও রয়েছে।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের একটি ব্যাংকে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও ব্যাংকগুলোও তেহরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘শত্রুরা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে যে, এখন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসনের অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও ব্যাংকগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ আমাদের সামনে রয়েছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ পরিচালনায় থাকা ব্যাংকের এক কিলোমিটার এলাকার ভেতরে বেসামরিক নাগরিকদের না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপদে আছেন মোজতবা খামেনি, আহতের খবর মিথ্যা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন বলে জানিয়েছেন সরকারের উপদেষ্টা ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান।
বুধবার এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি শুনেছি মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। তবে মোজতবা খামেনির সঙ্গে থাকা আমার কিছু বন্ধুবান্ধব নিশ্চিত করেছেন- সৃষ্টিকর্তার রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বার্তায় মোজতবা খামেনিকে ‘রমজান যুদ্ধে আহত এক অভিজ্ঞ সৈনিক’ বলে উল্লেখ করা হয়। তবে তিনি কবে, কোথায়, কোন পরিস্থতিতে আহত হয়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানায়নি সংবাদমাধ্যমটি।
এর পরপরই ইসরায়েলি হামলায় তার আহত হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার শুরুতে নিহত হন মোজতবা খামেনির বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। ওই হামলায় মোজতবা খামেনির মা, স্ত্রী, বোন, ভগ্নিপতিসহ খামেনি পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন।
তবে মোজতবা তখন অন্যত্র অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান এবং গত মঙ্গলবার এসেম্বলি অব এক্সপার্টসের ভোটে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
ইরানের আলিগুদারজে ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসি সদস্যসহ নিহত ৯

ইরানের আলিগুদারজ শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ।
হামলায় নিহতদের মধ্যে ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) কর্নেল সৈয়দ ইব্রাহিম মৌসাভিয়ানও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
এর কিছু সময় আগেই ইসরাইলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা পশ্চিম ইরানে একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এই হামলায় ইরানের ড্রোন ইউনিটের কয়েকজন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করে তেলআবিব। ওই কেন্দ্র থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে তেহরান ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল বলে ধারণা আইডিএফের।
তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজে হামলা
হরমুজ প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে গেছে। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী পরিচালিত যুক্তরাজ্যের সমুদ্র বাণিজ্য তদারকি কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার ওমানের উত্তরে প্রণালীতে জাহাজটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
হরমুজ প্রণালীতে এমন সময়ে হামলা হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের খনিজ ও তেলবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছিল। এই সরু সমুদ্রপথেই বিশ্বের তেলের এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পণ্য পরিবহন করা হয়।
ব্রিটিশ সেনারা জানিয়েছে, নাবিকরা দ্রুত আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি থেকে সরে যাচ্ছেন। তারা কাছাকাছি অবস্থান করা অন্য জাহাজের কাছেও উদ্ধারের সংকেত পাঠিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী ও আশেপাশের অঞ্চলে নিয়মিত মার্কিন ও ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন জাহাজ ও পশ্চিমা মিত্রদের মালিকানাধীন জাহাজে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে তেহরান। তবে তারা এখনো এবারের হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এর আগে যুক্তরাজ্যের সমুদ্র বাণিজ্য তদারকি কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল-খাইমাহ এলাকায় একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার কথা নিশ্চিত করেছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় হতাহতদের প্রতি পোপ লিওর গভীর শোক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে হতাহতদের প্রতি গভীর শোক জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ লিও। ভ্যাটিকান নিউজের খবরে বলা হয়, পোপ লিও মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র-লেবানন যুদ্ধ পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।
শোক বার্তায় পোপ লিও বলেন, ‘এসব হামলায় অনেক নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। পাশাপাশি যারা আহত মানুষদের সাহায্য করতে গিয়েছিলেন, তারাও প্রাণ হারিয়েছেন।’
মারোনাইট গির্জার ধর্মযাজক ফাদার পিয়েরে এল-রাহির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সোমবার লেবাননের কুলাইয়া এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হন। স্থানীয় একটি পরিবারের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলা হলে এল-রাহি তাদের ছুটে গিয়েছিলেন। সে সময় ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় তিনি নিহত হন।
মধ্যপ্রাচ্যে যেন দ্রুত সব ধরনের শত্রুতা ও সহিংসতা বন্ধ হয়ে যায় এবং অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসে সেই প্রার্থনা করেন পোপ লিও।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে খাদ্যের দাম বাড়তে পারে: জাতিসংঘের সতর্কতা

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা (ইউএনসিটিএডি)।
সংস্থাটির এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। বিশ্বে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৩৮ শতাংশ, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের ২৯ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৯ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়।
এ ছাড়া সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশও হরমুজ প্রণালী দিয়েই বিশ্ববাজারে পৌঁছায়।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানি, সার এবং পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব খাদ্যের দামে পড়বে। এতে বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হওয়া পণ্যের প্রায় ৮৪ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। তাই প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সুত্র: আল জাজিরা
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের
ইরানের ইসলামি রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
বাহিনীটির দাবি অনুযায়ী, নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে দুটি কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘ক্যাম্প আরিফজান’-এর দিকে ছোড়া হয়েছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, এই ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
তবে এই হামলার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানকে সংলাপে ফেরার আহ্বান কাতারের

প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা না করে ইরানকে ফের আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলাইফি বলেছেন, স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সংলাপই একমাত্র পথ।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইরান হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও হামলা করায় দোহা বিস্মিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করায় এই ঘটনার বিরূপ প্রভাব কাতারও অনুভব করেছে।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কূটনৈতিক পথই এই সংকট সমাধানের একমাত্র উপায়। স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই।’
আল-খুলাইফি আল জাজিরাকে জানান, কাতার দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এ ক্ষেত্রে ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
‘উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার বিষয়ে কাতার স্পষ্টভাবে নিন্দা জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেও কাতার তার অবস্থান তুলে ধরেছে’, যোগ করেন এই মন্ত্রী।
আল-খুলাইফি বলেন, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়, কিন্তু ইরান সেই বিষয়টি বুঝতে পারছে না। তারা বারবার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে এবং কাতারসহ অঞ্চলের অন্য দেশের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এতে ইরানের কোনো লাভ নেই। বরং এর ফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দোহার মাধ্যমে যোগাযোগের পথ খোলা রয়েছে জানিয়ে আল-খুলাইফি বলেন, চলমান সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে কাতারের অবস্থান অটুট থাকবে।
এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানসহ যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষকে শান্তির পথে ফিরে আসার এবং আবারও আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সুত্র: আল-জাজিরা
লেবাননে ইসরায়েলি হামলা: প্যারামেডিকসহ নিহত ৬

লেবাননে সবশেষ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। দেশটির ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টাইর জেলার হানাওয়ে শহরে ইসরায়েলের দুটি বিমান হামলায় তিনজন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন জরুরি চিকিৎসা সহায়ক কর্মী ছিলেন।
এ ছাড়া টাইরের আল-হাউশ এলাকায় আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদকের তথ্য অনুযায়ী, জাওতার আল-শারকিয়াহ শহরে ইসরায়েলের আরেক হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
এদিকে টাইর এলাকার আল-হাউশে একটি চায়ের দোকানে ড্রোন হামলা এবং আল-শাহাবিয়া শহরের একটি বাড়িতে হামলার ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


