রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক খন্দকার মাহমুদুল হাসান বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে ‘মুরতাদ কাফির’ বলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
বৃহস্পতিবার নেটওয়ার্কের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজ-সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। রোকেয়া যে সামাজিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠেন, সেখানে মেয়েদের ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের সুযোগ ছিল না। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শিক্ষা অর্জন করে তিনি সমাজ সংস্কার ও নারী শিক্ষার বিস্তারে ব্রতী হয়েছিলেন। তিনি লড়েছেন অন্ধ কুসংস্কার, বৈষম্য ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে। তিনি ধর্মবিদ্বেষী ছিলেন না, বরং সমাজে ও দেশে এবং বিশেষত নারী সমাজের প্রতি ধর্মের সংকীর্ণ ব্যাখ্যার সমালোচনা করেছেন।
এমন মহীয়সী নারীকে ‘মুরতাদ-কাফির’ আখ্যা দেয়া এককথায় অবিশ্বাস্য। এধরণের কথা বলে একজন শিক্ষক দায়িত্বহীন আচরণ করেছেন। বিবৃতিতে অবিলম্বে এরকম ঘৃণা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
প্রসঙ্গত, গত ৯ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিদ্যার শিক্ষক খন্দকার মাহমুদুল হাসান নিজের ফেসবুক পোস্টে বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ-কাফির’ বলে অভিহিত করেন।


