রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ: ককাসের চেয়ারপারসন 

রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ: ককাসের চেয়ারপারসন 
সোনার মানুষ সম্মিলন। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তবে রেমিট্যান্সের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত এর পেছনে থাকা অভিবাসী কর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে। এ জন্য নিরাপদ, ন্যায়সঙ্গত ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসনকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক সংসদীয় ককাসের চেয়ারপারসন ও সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।

বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার রূপসী বাংলা হলে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক সংসদীয় ককাস’-এর আনুষ্ঠানিক পরিচিতিও অনুষ্ঠিত হয়।

গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে রয়েছে একেকটি মানবিক গল্প–পরিবার থেকে দূরে থাকা একজন বাবার পরিশ্রম, ঝুঁকি নেওয়া একজন তরুণের স্বপ্ন এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিবারের বিনিয়োগ। তাই রেমিট্যান্স উপার্জনকারী মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত অভিবাসন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করতে হবে। অভিবাসীদের জন্য সঠিক তথ্য, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ এবং শোষণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। রেমিট্যান্স গ্রহণকারী পরিবারগুলো যেন এই আয়কে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগে কাজে লাগাতে পারে, সে জন্যও কার্যকর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে গঠিত সংসদীয় ককাসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন রামরুর নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী। তিনি এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততা, নীতিগত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেন, এমপি। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসবাসের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসছে। এসব এলাকার সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ চিহ্নিত করতে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে নেত্রকোণা ও হাওর অঞ্চলের মানুষের সমস্যা সমাধানে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, শেরপুরসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বেশি এমন এলাকাগুলোর সমস্যাও চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকার এ বিষয়ে এগিয়ে যেতে চায়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকসহ ককাসের অন্যান্য সদস্য তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই সংসদীয় ককাস জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে সংসদীয় আলোচনা, নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের অধিকার, সুরক্ষা এবং জীবন-জীবিকার বিষয়গুলো জাতীয় নীতিনির্ধারণে আরও গুরুত্ব পাবে।

রামরুর ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad