নির্বাচনী সমঝোতা ও আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করতে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আসন বিন্যাস ঘোষণা করা হবে।
ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০ আসন রেখে বাকি ২৫০ আসনে সমঝোতা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের মধ্যে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।
টাইমস অফ বাংলাদেশকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু।
নেতারা জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে এবং সংবাদ সম্মেলনে তাদের যুক্ত করে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান উপস্থাপনের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
বৃহস্পতিবার বিকালে জামায়াত জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান জোটের নেতারা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের যে প্রক্রিয়া চলছে, সেই ১১ দলের একটা বৈঠক ছিল। আমরা শীর্ষ বৈঠকের এই আয়োজনটা খুবই তাড়াহুড়ার মধ্যে এবং একটু ক্রিটিক্যাল সময়ে নির্ধারণ করতে হয়েছে। অনেকে নেতৃবৃন্দই সারারাত এগুলো নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। সিদ্ধান্তটা ফাইনাল করতে হয়েছে এবং সবাইকে সময়মতো অবহিত করা সম্ভব হয়নি। সেই হিসেবে এই জায়গাটায় একটু গ্যাপ ছিল।’
জোটে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০টা দলই এখানে উপস্থিত হয়ে এই বৈঠকটা সম্পন্ন করেছি। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আশা করি, আমরা একসঙ্গেই রাত আটটায় আমাদের সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্ত বক্তব্যগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে উপস্থাপন করতে পারব।’
ইসলামী আন্দোলনকে ৪৫টি আসন দেওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসন সংক্রান্ত যাবতীয় ডিটেইলস আমরা সেই কনফারেন্সেই করব এবং সেখানে ইসলামী আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়েই আমরা আমাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।’
মতভিন্নতা নিয়ে আব্দুল্লাহ তাহেরের মন্তব্য জোটের মধ্যে কোনো অস্থিরতা আছে কি না–এমন প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ তাহের বলেন, ‘আমরা কোনো ঝামেলার ভেতরে নাই এবং আমাদের ভেতরে যে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, কিছুটা মতভিন্নতা হচ্ছে, এটাকে ঝামেলা বলা যায় না।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জোটের লক্ষ্য স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই জোট কিন্তু শুধুমাত্র আসন সমঝোতার জোট না, এটার একটা রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। আমাদের যে এজেন্ডাগুলো রয়েছে—সংস্কার, দুর্নীতি বিরোধিতা, আধিপত্যবাদ বিরোধিতা–সেই এজেন্ডাগুলোকে সামনে রেখে আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ জায়গায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’
প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘সমঝোতা মানেই তো সবাই সবাইকে এখানে সহযোগিতা করবে। পুরো বাংলাদেশে ৩০০ আসনেই আমাদের কিন্তু এখন আর কোনো দলের প্রার্থী নেই, মূলত জোটের প্রার্থী হবে। জোটের প্রার্থী যাকেই মনে করা হবে বৃহত্তর স্বার্থে তাকে আমরা সবাই সহযোগিতা করব।’


