রাজবাড়ী শহরের কাপড়ের বাজার এলাকায় নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানাকে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। প্রকাশ্যে হেনস্তার ওই ঘটনায় এরইমধ্যে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাজবাড়ী সকালে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজবাড়ী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ধুঞ্চি এলাকার আব্দুল্লাহ আল সিয়াম খান (১৯), একই এলাকার মো. রুবেল হোসেন (১৯) এবং পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড ধূঞ্চি গ্রামের মো. হেলাল উদ্দিন (৩৮)।
এর আগে সোমবার বিকালে ভুক্তভোগী জাকিয়া সুলতানা নিজেই বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা করেন।
জাকিয়া বলেন, ‘আমার ওপর বর্বরোচিত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে থানায় মামলা করেছি। আমি আশা করছি প্রশাসন আমাকে সঠিক বিচার এনে দেবে।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শহরের বড় বাজারের কাদেরিয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প গার্মেন্টস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন জাকিয়া সুলতানা। সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর বেতন ও মালামালের হিসাব নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
গত ২৩ আগস্ট ওই কর্মচারী ১৫-২০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হুমকিধামকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী বড় বাজারে জাকিয়া সুলতানাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়। পরে ঘটনার একটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, পুলিশের উপস্থিতিতে কয়েকজন ব্যক্তি জাকিয়া সুলতানাকে সুরক্ষার উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পেছন থেকে এসে এক যুবক তাকে সজোরে লাথি মারছেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে থানায় মামলা করার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ তাদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে সোমবার দুপুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রতিবাদ জানাতে সাময়িকভাবে দোকানপাট বন্ধ রেখে সমাবেশ করেন রাজবাড়ী কাপড়ের বাজারের ব্যবসায়ীরা। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা।
রাজবাড়ী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজির আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঘটনাটির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ঘটনার পর আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। যে দুজন ব্যক্তি ওই নারীকে লাথি মেরেছেন, তাদের ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার খণ্ডিত অংশ প্রকাশ করে যেন বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব না ছড়ানো হয়, সেই আহ্বানও জানান ব্যবসায়ী নেতারা।


