পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি আদিবাসীদের প্রধান সামাজিক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘বিঝু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংক্রান ও বিষু’ উপলক্ষে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বিশেষ মেলা। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে এ মেলা চলবে শনিবার পর্যন্ত।
রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১৩ নম্বরের শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন থেকে রিকশায় মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে মেলার স্থানটি অবস্থিত।
‘ঢাকাস্থ পার্বত্য উদ্যোক্তা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর উদ্যোগে এবং ‘সিএইচটি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-এর সহযোগিতায় দ্বিতীয়বারের মতো এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলায় অংশ নিয়েছেন পাহাড়ি নারী উদ্যোক্তা জিলিয়ান তালুকদার। তার স্টল ‘কোরিয়ান গ্ল্যাম বাংলাদেশ’-এ পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি কোরিয়ান বিভিন্ন পণ্যও পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
মেলার উদ্বোধনীর প্রথম দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এবারের মেলায় ৩০ থেকে ৩৫টি স্টলে পার্বত্য চট্টগ্রামের টাটকা কৃষিপণ্য, জুম চাষের সবজি, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এবং পাহাড়ি খাবারের সমাহার থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচ পরিবেশিত হবে। এ ছাড়া শেষ দিনে থাকছে লটারি ড্র।
মেলা শেষ হওয়ার পরদিন রোববার বসবে ‘স্পেশাল বিজু বাজার’। উৎসবকে কেন্দ্র করে টাটকা সবজি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও শুকনো খাবারের বিশেষ বাজার বসবে ওইদিন।
আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব সুবিমল চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও খাদ্যপণ্যের প্রতি নগরবাসীর ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। সেই আগ্রহ থেকেই আমাদের এ আয়োজন, যাতে পাহাড়ি ও বাঙালি সবাই মিলেমিশে উৎসবের স্বাদ নিতে পারেন।’
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক দো অং মারমা ঢাকাবাসীকে উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। আয়োজকদের অন্যতম সদস্য বিপলী চাকমা জানান, গত বছরের মতো এবারও ব্যাপক সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। মেলায় ‘হেবাং’ রেস্তোরাঁর নানা পাহাড়ি মুখরোচক খাবার থাকবে বলেও তিনি জানান।


