রাজধানীতে চাঁদাবাজ, মাদককারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে গত ১ মে থেকে মহানগরজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং অনলাইন জুয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত ও ৯৪ জন তালিকার বাইরে থাকা চাঁদাবাজকে আটক করা হয়েছে। এ সময় চাঁদা আদায়ের খাতা, লেনদেনের তথ্য ও ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
এছাড়া মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের আটক করে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপ ও সার্ভার জব্দ করা হয়েছে।
ডিএমপি আরও জানায়, অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, ব্লক রেইড এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। বাজার, টার্মিনাল, কাঁচাবাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল এবং ঝটিকা অভিযান বাড়ানো হয়েছে।
নগরীর নিরাপত্তা জোরদারে বসিলা ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ী ও স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং সেলও কাজ করছে।
ডিএমপি জানায়, ভবিষ্যতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে আরও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং তথ্যভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো হবে।
ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ‘অপরাধ দমন শুধু পুলিশের একার কাজ নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ব। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।’
তিনি নগরবাসীকে চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য নিকটস্থ থানা বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানানোর আহ্বান জানান এবং তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


