মাদারীপুর সদর উপজেলায় যৌতুকের দাবি পূরণ না করায় সুমি আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী আকবর হাওলাদারসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
সোমবার সকালে সদর উপজেলার উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে সুমির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত সুমি আক্তার ডাসার উপজেলার পূর্ব দর্শনা এলাকার চান্দু মোল্লার মেয়ে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে উত্তর ঝিকরহাটি গ্রামের আকবর হাওলাদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল।
সম্প্রতি সুমির পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তবে সুমির পরিবার ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায় বলে দাবি তাদের।
স্বজনদের অভিযোগ, রোববার রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী আকবরের সঙ্গে সুমির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে বসতঘরে মরদেহ ফেলে রাখা হয়। পরে সোমবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আকবরসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, গৃহবধূর শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর সে অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


