২০২৪ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হওয়ায় নিয়মিতই নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের চার্টার্ড সামরিক ফ্লাইটে দেশে পাঠানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক চার্টার্ড ফ্লাইটে আরও ৩১ বাংলাদেশি দেশে ফেরত আসেন সোমবার সন্ধ্যায়। ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে তাদের জরুরি সহায়তা ও পরিবহন ব্যবস্থা প্রদান করা হয়। ফেরত আসা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নোয়াখালীর বাসিন্দা। এ ছাড়া সিলেট, ফেনী, শরিয়তপুর ও কুমিল্লার মানুষও রয়েছেন।
ফেরত আসা অনেকেই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরিয়ে তাদের দেশে পাঠিয়েছে এবং দেশে পৌঁছানোর পরই তাদের শিকল খোলা হয়।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, ফেরত আসা ৩১ জনের মধ্যে অন্তত সাতজন বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, ‘নথিপত্রহীন কাউকে ফেরত পাঠানো স্বাভাবিক। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাতকড়া ও শিকল পরানো অমানবিক আচরণ।’
তিনি আরও জানান, ব্রাজিলে কাজের নামে অনেক কর্মীকে পাঠানো হলেও তাদের একটি বড় অংশ পরে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে বিপদে পড়ছেন। একেকজন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেও শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এর আগে, চলতি বছরের ২৮ নভেম্বর আরেকটি চার্টার্ড সামরিক ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৯ বাংলাদেশি দেশে ফেরত আসেন। তাদের অধিকাংশই ব্রাজিল–মেক্সিকো রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। একইভাবে ৮ জুন চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ জন এবং ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত একাধিক ফ্লাইটে অন্তত ৩৪ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়।
মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী ব্যক্তিদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। আশ্রয়ের আবেদন ব্যর্থ হলে আইসিই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করে। অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসন প্রত্যাশীরা বিপাকে পড়ছেন।


