যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গোলাগুলির ঘটনায় দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে প্রেসিডেন্সিয়াল ভবন হোয়াইট হাউসের কাছে এ ঘটনা ঘটে। এ সময়, নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে হামলাকারীও গুরুতর আহত হন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনার সময় ফ্লোরিডায় নিজের মার-এ-লাগো রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন এবং তিনি নিরাপদে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, একমাত্র সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী আফগান নাগরিক। নাম রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল (২৯)। তবে তার অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য পরিষ্কার নয়। অভিবাসন নথি অনুযায়ী, তিনি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে দুই ব্লকেরও কম দূরত্বে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে লক্ষ্য করেই তিনি ওই হামলা চালান বলে দাবি করেছে পুলিশ।
ন্যাশনাল গার্ডের ওয়াশিংটন ডিসির যৌথ টাস্ক ফোর্সের তথ্যমতে, বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ২টা ১৫ মিনিটের দিকে ফ্যারাগুট স্কয়ার মেট্রো স্টেশনের কাছে ওই হামলা হয়। দুজন সেনা তখন সেভেনটিন স্ট্রিট ও আই স্ট্রিটের কাছে টহলে ছিলেন।
এসময় কাছাকাছি অবস্থান করা অন্য ন্যাশনাল গার্ড সদস্যরা গুলির শব্দ শুনে হামলাকারীকে প্রতিহত করেন।
এদিকে হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘সন্ত্রাস একটি জঘন্য কাজ, ঘৃণার কাজ এবং অশুভ কাজ।’ এই হামলায় জড়িত ব্যক্তির কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘এক মানুষরূপী পশু দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করেছে, দুজনেই গুরুতরভাবে আহত এবং সেও (হামলাকারী) গুরুতরভাবে আহত। কিন্তু যাই হোক না কেন, সে খুব কঠিন মূল্য দেবে। ঈশ্বর আমাদের মহান ন্যাশনাল গার্ড, এবং আমাদের সব সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আশীর্বাদ করুন।’
২০২১ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে আফগানিস্তানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর হাজার হাজার আফগান নাগরিক বিশেষ অভিবাসন সুরক্ষার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।
পরোক্ষভাবে এ হামলার পেছনে জো বাইডেনের ওই সিদ্ধান্তকে দায়ী করে ট্রাম্প এক ভাষণে বলেন, ‘বাইডেনের আমলে আফগানিস্তান থেকে আমাদের দেশে প্রবেশ করা প্রত্যেক বিদেশিকে এখন পরীক্ষা করতে হবে।’

ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এফবিআই-এর পরিচালক কাশ প্যাটেল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের সেনাদের ওপর “নিষ্ঠুর ও ভয়ংকরভাবে” হামলা চালানো হয়েছে। তারাই লক্ষ্য ছিলেন। তবে হামলাকারীর আক্রোশের কারণ এখনও অজানা।’
এই হামলার পর হোয়াইট হাউসে সাময়িক লকডাউন এবং থ্যাঙ্কসগিভিং উদযাপনের আগের দিনে শহরের প্রধান বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুযায়ী, হামলার পর রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল।
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে আরও ৫০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠাতে বলেছেন। পেন্টাগন প্রধান বলেন, ‘এটি কেবল আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে, যাতে আমরা ওয়াশিংটন ডিসিকে নিরাপদ ও সুন্দর রাখতে পারি।’
বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় দুই হাজার ২০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এই বাহিনীর মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসি, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, ওহাইও, সাউথ ক্যারোলাইনা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, জর্জিয়া ও অ্যালাবামার বিভিন্ন ইউনিটের দস্যরা রয়েছেন।


