যশোরের চৌগাছায় আতিয়ার রহমান (৪২) নামে এক বিএনপিকর্মীকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওসমান (৩০) নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ।
রোববার আসর নামাজের পর উপজেলার চৌগাছা, সিংহঝুলী ও ধুলিয়ানী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের সিংহঝুলী ইউনিয়নের খালে ভাসমান অবস্থায় আতিয়ারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আতিয়ার রহমান চৌগাছা সদর ইউনিয়নের লস্কারপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপির কর্মী ছিলেন। তার বাবা ছবেদ আলী চৌগাছা সদর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য।
শারীরিকভাবে কিছুটা প্রতিবন্ধী আতিয়ার বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ে পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। একইসঙ্গে বাওড়ের পাশে থাকা তার একটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে কৃষি ও সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
বাবা ছবেদ আলী ও ছোট ভাই রাশেদ জানান, আতিয়ার প্রতিদিন সকালে বাড়ি গেলেও রোববার বাড়ি যাননি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। এক পর্যায়ে রোববার বিকাল ৫টার দিকে নিহতের ভাতিজা হাসান (২৬) বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের ক্যানালের (বাওড়ে পানি প্রবেশের খাল) কচুরিপানার নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য লোকজন ঘটনাস্থলে যান এবং চৌগাছা থানা পুলিশে সংবাদ দেন। পরে চৌগাছা থানার ওসির নেতৃত্বে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে ফতেপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে ওসমানকে (৩০) ধরে মারধর করেন নিহতের স্বজনরা। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম জানান, আতিয়ার বিএনপির কর্মী ছিলেন। বেড়গোবিন্দপুর বাওড়কেন্দ্রীক তাদের সঙ্গে কিছু লোকের বিরোধ ছিল। তারা আগেও আতিয়ারের পরিবারের লোকজনকে আহত করেছিলেন। সে বিষয়ে মামলাও হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘যারাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকুক, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, নিহতের গলা, পেট ও পিঠের ডানপাশে বগলের নিচে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাটার দাগ রয়েছে। এ ঘটনায় অপরাধীদের চিহ্নিত করে আটকের অভিযান চলছে।


