বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক মডেল ও অভিনেত্রী মেঘনা আলমকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া ‘সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি’ বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, রোববার (১৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মেঘনা আলমের বিষয়ে কিছু অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত চলছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি প্রশাসনের বিবেচনাধীন।’
এদিকে, মেঘনা আলমকে আটকের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধানের পদ থেকে রেজাউল করিম মল্লিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে ডিএমপি সদর দপ্তরে।
অন্যদিকে, এ দিন বিশেষ ক্ষমতা আইনে মেঘনার আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন মেঘনার বাবা। রিট আবেদনেও তার গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে মেঘনা আলমকে আটক করে ডিবি পুলিশ। আটক হওয়ার আগে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, পুলিশ পরিচয়ধারীরা তার বাসার দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। ১২ মিনিটেরও বেশি সময় চলা সেই লাইভ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে তার ফেসবুক আইডি থেকে তা মুছে দেওয়া হয়, যদিও এরই মধ্যে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। এরপর আদালত বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩ (১) ধারা অনুযায়ী তাকে ৩০ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মেঘনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্ন, ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে অবনতি ঘটানোর চেষ্টা এবং দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানায় ডিবি।


